‘বিভিন্ন বাস টার্মিনালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ কর্তৃক ইলিয়াস কাঞ্চনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা’করার প্রতিবাদে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, ‘আমাকে কেন অবাঞ্ছিত করা হয়েছে তা প্রকাশিত সংবাদে উঠে আসেনি। এছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় খুলনা এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেপথ্যের নায়ক উল্লেখ করে আমার ছবি পোড়ানো হয়েছিল। তখন বিষয়টি জানার পরেও সকলের মঙ্গলের কথা ভেবে বিষয়টি আমি আপনাদের বলিনি।’
এসব ঘটনায় তিনি বিচলিত নন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি নিজেকে নিয়ে চিন্তিত নই। আমি চিন্তিত সড়ক নিয়ে, সড়কের মানুষকে নিয়ে। তাই বাঞ্ছিত কিংবা অবাঞ্ছিত কোনকিছুই আমাকে আমার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। আমি কাজ করছি সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে। জনগণের মাঝে সচেতনতা আনতে, সকল চালকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত গড়ে তুলতে। সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সড়ক দুর্ঘটনারোধ করতেও আমি কাজ করছি।’
সড়ক দুর্ঘটনারোধে কাজ করতে গিয়ে আমি কাউকেই প্রতিপক্ষ মনে করি না উল্লেখ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধুমাত্র চালকই দায়ী নয়, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে যে বা যারা দায়ী আমি তাদেরই কথা বলি। যেমন, পথচারীদের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যাত্রীর কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, গাড়ির ফিটনেসের কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, রাস্তার ত্রুটির কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ওভারস্পিড-ওভারলোড-ওভারটেকিংয়ের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মোট কথা, যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটবে তাকেই বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা যে দাবি করছেন তা সরকারের দেখার বিষয়। আমরা চাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন। এই আইন প্রণয়নে আমাদের পক্ষ থেকে ছোট-বড় মিলিয়ে একাধিক সংশোধনী দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে আইনটির শিরোনাম ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন ২০১৮’, সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তির মেয়াদ ১০ বছর, অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটালে এবং তাতে কারও মৃত্যু হলে ৩০২ ধারায় মামলার সুপারিশ উল্লেখযোগ্য।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আইনটি পাস হওয়ার পর আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আমাদের চাওয়ার প্রায় ৮০ ভাগই বর্তমান আইনে এসেছে। এ কথা অনস্বীকার্য যে, আমরা ছাড়াও সড়কে আরও স্টেকহোল্ডার রয়েছে। আমি সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৮ প্রণয়নে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এজন্য যে দীর্ঘদিনের জঞ্জাল পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। বিশেষ করে এ আইন প্রয়োগে সব মহলের আন্তরিকতা, মনিটরিং ও মেনে চলার মধ্য দিয়ে সর্বস্তরে নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এ আইন নিয়ে যদি আমাকে জড়ানো হয় তা হবে দুঃখজনক। আমি মনে করি, সরকার সব মহলের মতামত নিয়ে এ আইন প্রণয়ন করেছে। আমি একজন স্টেকহোল্ডার মাত্র।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নিরাপদ সড়ক চাই- এর ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুজ্জামান, মহাসচিব সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল, যুগ্ন মহাসচিব লিটন এরশাদ, বেলায়েত হোসেন নান্টু ও লায়ন গনি মিয়া বাবুল, অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসাইন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুলী কাজী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মঈন জয়, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম আর হাসান, প্রচার সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল খালেক প্রমুখ।