এই প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কোনও হুমকি নেই।’ তবু কোনও স্বার্থান্বেষী মহল সহিংসতার চেষ্টা করলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে জানান তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের নজরদারি রয়েছে। এ রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতার চেষ্টা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কোনও ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর পাশাপাশি সারাদেশে বিশেষ করে মামলায় রায় হতে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিজস্ব এলাকায় নাশকতা ঠেকাতে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে টহল। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন সড়কে র্যাব ও পুলিশের বাড়তি টহল গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। বুধবার সকাল থেকেই এই নিরাপত্তা আরও বেশি জোরদার করা হবে। সাদা পোশাকে পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি রায়ট কার, জলকামানও মোতায়েন করা হবে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে রায়ের মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর নাজামুদ্দিন সড়কের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত বিশেষ আদালত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ আদালতসহ আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বাড়তি পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সন্দেহভাজনদের করা হচ্ছে তল্লাশি।
বিশেষ আদালত এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশেষ আদালত ও আশপাশে বেশ কয়েকটি থানা এলাকা রয়েছে। সবগুলোর থানার সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমাদের টহলের পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আমরা সতর্ক রয়েছি।’
পুলিশের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা জানান, নাশকতার সুনির্দিষ্ট কোনও আশঙ্কা নেই। তবে বড় একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম জড়িত থাকায় রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াত অধ্যুষিত জেলাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকার বাইরে বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এর আগে এক জামায়াত নেতার ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলায় যে ব্যপক নাশকতা করা হয়েছিল, তেমন কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না। রাস্তা অবরোধ করে কেউ বিশৃঙ্খল করার চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।
এদিকে, র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রায়কে ঘিরে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন অবনতি না হয়, সেজন্য র্যাবের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে র্যাব মোতায়েনের পাশাপাশি ভেহিক্যাল টহল ও তল্লাশির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’