চুয়াডাঙ্গায় এক চক্ষু শিবিরে ১৭ জন রোগীর চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় করা রিটের রায় ঘোষণার সময় রবিবার (২১ অক্টোবর) বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সাতদিনের মধ্যে এই কমিটি গঠনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
এ সময় আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত। তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জনের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে চোখ হারানো ১৭ জনকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চিকিৎসাক্ষেত্রে অবহেলার ঘটনা ঘটলে তা পর্যবেক্ষণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে আদালত অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচিবের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আইন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের (লিখিত) পর্যবেক্ষণে কমিটি গঠনের বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে বলেও আদালত জানিয়েছেন।
এর আগে গত ২৯ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে ‘চক্ষু শিবিরে গিয়ে চোখ হারালেন ২০ জন!' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে প্রতিবেদনটি দাখিল করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সেই রিটের শুনানিতে চোখ হারানো প্রত্যেককে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
এরপর দীর্ঘদিন ধরে সেই রুলের শুনানি শেষে রবিবার (২১ অক্টোবর) রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে চক্ষু শিবিরে চিকিৎসা নিতে এসে চোখ হারানো ১৭ জনের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং ওষুধ আমদানি ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান আইরিশ কোম্পানিকে পৃথকভাবে পাঁচ লাখ টাকা করে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে রায় হাতে পাওয়ার এক মাসের মধ্যে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া চক্ষু শিবিরে চোখ হারানোর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ জনসহ মোট ২০ জনকে আজীবন চোখের চিকিৎসা দিতে চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।