খিলক্ষেতে দুই পরিবহন শ্রমিকের মাদক নিয়ে মারামারি, একজনের মৃত্যু

মরদেহ

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় দুই মাদকসেবীর মধ্যে ধস্তাধস্তিতে আহত হয়ে বাসায় যাওয়ার পর রুবেল ইসলাম (২৯) নামে ট্রাকচালকের এক সহকারী নিহত হয়েছেন। তবে মারামারির কারণে নাকি মাদকের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি। শনিবার ভোরে তার মৃত্যু হলে সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে বারোটার দিকে খিলক্ষেতের বরুয়া পারুলিয়া নামক জায়গায় জাহাঙ্গীর নামে অপর এক পরিবহন শ্রমিকের সঙ্গে মাদক নিচ্ছিলেন রুবেল। জায়গাটি রুবেলের বাড়ির পেছনেই। তাদের দুজনের মধ্যে এসময় তুচ্ছ কারণে ধস্তাধস্তি হয়। একে অপরকে কিল ঘুষি দেয়। এরপর রুবেল বাসায় চলে যায়। ভোর ৫ টার দিকে তিনি ‘পেট জ্বলে গেলো’ বলতে বলতে বাসাতেই মারা যায়। এরপর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহত রুবেল কিশোরগঞ্জ করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ির মৃত আব্দুস সাত্তার এর ছেলে। তিনি খিলক্ষেতের বরুয়ার পারুলিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন।

নিহতের ছোট ভাই জুয়েল জানান, ‘শুক্রবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বাসার পেছনের একটি খালি জায়গায় জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন মিলে তার ভাই মাদক সেবন করছিলেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতি হয়। এসময় জাহাঙ্গীরের মারধরে গুরুতর আহত হন তার ভাই রুবেল। বাসায় আসার পর রাতে তার পেট ব্যথা হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভোরবেলার দিকে তিনি বাসায় মারা যান।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোরবেলায় সংবাদ পেয়ে আমরা নিহতের বাসায় যাই। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতের শরীরে তেমন কোনও আঘাত না থাকলেও বুকে একটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরকে খোঁজা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।