ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

মাসুদা ভাট্টি ও ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন

টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির প্রশ্নের জবাবে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ব্যরিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। 

রবিবার (১১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশান থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম অভিযোগপত্রটি আদালতে সংশ্লিষ্ট জিআর শাখায় দাখিল করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) রকিবুল ইসলাম এ তথ্য জানান। 

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপ-কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সদস্য সুমনা আক্তার লিলি। ট্রাইব্যুনাল বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে গুলশান থানাকে এজহার গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। এরপর গত ১ নভেম্বর এ মামলায় মইনুলকে হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলা দায়েরের ১৬তম দিনে আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করে পুলিশ।

মামলায় অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৭১ এ প্রচারিত মিথিলা ফারজানা সঞ্চালিত টক শো ৭১ জার্নাল চলাকালে মাসুদা ভাট্টি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রশ্ন করেন,‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন, আপনি বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বলেন, আপনি জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকেন।’ মাসুদা ভাট্টির এই কথার জবাবে মইনুল হোসেন বলেন,‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনাকে আমি চরিত্রহীন বলে মনে করতে চাই।’ একজন নারীর প্রতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের এমন ইচ্ছাকৃত ধারাবাহিক কুৎসা রটনা ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য মাসুদা ভাট্টি ও নারী জাতির প্রতি বিরক্তিকর, অপমানজনক, অপদস্থমূলক এবং হেয়প্রতিপন্নকর বলে বাদী মনে করেন। প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশ করার কারণে মাসুদা ভাট্টি তথা নারী জাতির সম্মানহানি নিরসনকল্পে আজ পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনোরূপ ক্ষমা প্রার্থনা কিংবা দুঃখ প্রকাশ করেননি মইনুল হোসেন ।