মেধাসম্পদ সুরক্ষা মানেই দেশ ও জাতিকে রক্ষা করা। মেধাসম্পদ সুরক্ষা দেশের বিচারকাঠামো, দেশের ভূপ্রকৃতি ও জাতিকে রক্ষার প্রশ্ন। শুক্রবার (৩ মে) বিকাল ৫টায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মেধাসম্পদ সুরক্ষা মঞ্চের (মেধাসুম) উদ্যাগে আয়োজিত ‘মেধাসম্পদ সুরক্ষা: পরিপ্রক্ষিত, চ্যালঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মেধাসুমর আহ্বায়ক সাংবাদিক আবু সাঈদ খান।
এতে সভাপতিত্ব করেন মেধাসুমর আহ্বায়ক সাংবাদিক আবু সাঈদ খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণবৈচিত্র্য গবেষক পাভেল পার্থ।
আলোচনা করেন খ্যাতিমান জিনবিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, প্যাটেন্ট অধিদফতরের সাবেক রেজিস্ট্রার মো. আবদুর রউফ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাসনুভা শেলী। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন মেধাসুমর সদস্য সচিব আলী নাঈম। আলোচনা পর্ব শেষে মুক্ত আলোচনা পর্ব কয়েকজন দর্শক তাদের মতামত, পরামর্শ ও প্রশ্ন তুলে ধরেন।
সভাপতির আলোচনায় আবু সাঈদ খান বলন, মেধাসম্পদ সুরক্ষা দেশের বিচারকাঠামো, দেশের ভূপ্রকৃতি ও জাতিকে রক্ষার প্রশ্ন। এটা দল-মতনির্বিশেষে সবার দায়িত্ব, যদিও মূল দায়িত্ব সরকার ও রাষ্ট্রের। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দেশবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং এর মাধ্যম সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের ওপর চাপ তৈরি, মতামত দেওয়ার ভূমিকা পালন করতে চাই। এ আলোচনা সভা থেকে সবাইকে এ আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই।
জিনবিজ্ঞানী আবেদ চোধুরী বলন, ‘আমি গত কয়েক বছর ধরে বিষয়গুলো নিয়ে ভীষণ অস্থির হয়ে ছিলাম। আমাদের ধান, বেগুন, নদী, আমাদের নানা প্রাকতিক-সাংস্কৃতিক সম্পদ কী আমরা রক্ষা করতে পারবো না? এখন মনোভাব একটু স্থির হয়েছে যে ইতিবাচকভাবে কিছু কাজ করা যায়।
মানবাধিকার কর্মী শামসুল হুদা বলেন, ধান নিয়ে কাজ করতে গিয়ে একসময় দেখলাম কৃষকরা বহু বছর বহু সাধনায় যে ধান উদ্ভাবন করেছেন, সেগুলো তারা রক্ষা করতে পারছেন না। শুধু এই সরকার নয়, অতীতের সরকারগুলোও এ নিয়ে সচেষ্ট ছিল বল মনে হয় না। এ বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবার এবং আর্থিকভাবে কাজ করার সময় এসেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের সব দিকে ঘাটতি আছে। আইনের ঘাটতি, আইন জানার ঘাটতি, আইন প্রয়োগের ঘাটতি। যদিও বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মানুষের অভাব আছে, এমনটা আমি মনে করি না। এমনকি তাদের কাছে কেউ যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগেও আইন বিষয়ে চারজন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের কাছে সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কখনও গিয়েছে বলে শুনিনি।
প্যাটেন্ট অধিদফতরের সাবেক রেজিস্ট্রার মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘আমি যখন রেজিস্ট্রার অধিদফতরে ছিলাম, তখন একবার ওষুধ কোম্পানিগুলোর মালিকদের সঙ্গে বসেছিলাম। তাদের বলেছিলাম যে আপনারা নিজেরা গবেষণা করে নতুন ওষুধ আবিষ্কার করেন, সেগুলো প্যাটেন্ট করেন। ভবিষ্যতে যখন ওষুধের প্যাটেন্ট নিয়ে বিপদে পড়বেন, তখন ওষুধের দাম অনেক বেড়ে যাবে। তারা বলেছিল যে আমরা তখন অন্য ব্যবসায় চল যাবো। এই হলো আমাদের দেশর ব্যবসায়ীদের মনোভাব।









