সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই সাদ বিরোধীদের সমাবেশ

সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই সাদ বিরোধীদের সমাবেশ

তাবলিগ জামাতের বিবাদমান দুপক্ষের সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও মানছে না সাদ বিরোধীরা। শনিবার দুপুর থেকে রাজধানীর বারিধারায় ঢাকা মহানগর হেফাজতের অস্থায়ী কার্যালয়ে ওয়াজাহাতি জোড় (স্পস্টকরণ সভা) অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাবলিগ জামাতে দিল্লির নিজামুদ্দিনের মাওলানা সাদ কান্ধলভি’র অনুসারীদের দেশের কোথাও কাজ করতে না দেওয়াসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় হেফাজত আমিরের সাবেক প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৮টি সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওয়াজাহাতি জোড়ে ঢাকা মহানগর হেফাজতের সভাপতি ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রসার মুহতামিম নূর হোসাইন কাসেমী, কাকরাইল কেন্দ্রীয় মার্কাজ মসজিদের মুরুব্বী মাওলানা যোবায়ের, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার শায়খুল হাদীস উবায়দুল্লাহ ফারুক বক্তব্য রাখেন।

গত ২৮ জুলাই হেফাজতপন্থী কওমি আলেমদের উদ্যোগে প্রথম তাবলিগ জামাত নিয়ে ওয়াজাহাতি জোড় অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফী আসলেও ছিলেন না বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কোন শুরা সদস্য। সভা থেকে আলেমদের পক্ষ থেকে ৬টি সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। সিদ্ধান্তের মধ্যে, মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়া এবং তার অনুসারীদের বাংলাদেশ কাজ করতে না দেওয়া ছিলো অন্যতম।

যদিও ১৫ নভেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাবলিগ জামাতের দুক্ষের উপস্থিতিতে  বৈঠকে সিদ্ধান্ত  হয়, দুপক্ষের সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।  আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার পূর্ব নির্ধারিত সময়ে স্থগিত করা হয়  একই বৈঠকে। একই  সঙ্গে মাওলানা সাদকে কেন্দ্রে চলমান সংকট নিরসনে তাবলিগ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারত যাবেন।

১৫ নভেম্বর ধর্ম সচিব  মো. আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তাবলিগের দুপেক্ষের সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তারা কোন জোড়, ওয়াজহাতি জোড় কিছুই করতে পারবেন না। এছাড়া একটি প্রতিনিধি দল ভারত যাবেন, তারা আলাপ আলোচনা করে সমাধান করবেন। নির্বাচন শেষ হলে দুই পক্ষ বসেই ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাদ বিরোধী তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি মাওলানা যুবায়ের আহমদ, সাদ অনুসারী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আলেমদের মধ্যে শোলাকিয়া ঈদগাহর খতিব মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ ও গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমূদুল হাসানও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো. জয়নাল আবেদিন, পুলিশের আইজি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী,ধর্ম সচিব, সেতু বিভাগের সচিব, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

তবে ওয়াজাহাতি জোড়ে বক্তারা বলেন, ইসলামের নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে মেনেই মাওলানা ইলিয়াছ (রহ.) এর পরিচালনায় দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ শুরু হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, নিজে নিজে আমির হয়ে গিয়ে কয়েক বছর যাবৎ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন মাওলানা সাদ। তার সৃষ্ট মৌলিক তিনটি বিভ্রান্তি হলো, তিনি শ্রেষ্ঠ কুরআনের মনগড়া ব্যাখ্যা করছেন। তাবলিগের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে তিনি দীন প্রতিষ্ঠা ও প্রচারের অন্যান্য অপরিহার্য কর্মসূচিসমূহকে হেয় করার অপচেষ্টায় করেছেন। তাবলিগের  ধারার মাঝে এমন কিছু ঢুকিয়েছেন, যা কুরআন-সুন্নাহ  পরিপন্থী।

ওয়াজাহাতি জোড়ে  আরও বক্তব্য রাখেন, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার শায়খুল হাদীস উবায়দুল্লাহ ফারুক, নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মুহাম্মদপুরে শায়খুল হাদীস মাওলানা মনসূরুল হক, মারকাযুদ্দাওয়া আল ইসলামিয়ার শায়খুল হাদীস মাওলানা আব্দুল মালেক, শায়েখ জাকারিয়া ইসলামিক রিচার্স সেন্টারের  পরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার নায়েবে মুহতামিম হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান, ইসলামিক রিচার্স সেন্টার বসুন্ধরা’র মুফতি মাওলানা এনামুল হক ও মুফতি মাওলানা আব্দুস সালাম, মসজিদে তাক্বওয়া-উত্তরা’র খতিব  মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আযহারী, দারুল উলূম টঙ্গী’র মুহতামিম মাওলানা মাসউদুল করীম, জামেয়া ইসলামিয়া মেফতাহুল উলূম মধ্য বাড্ডা’র পরিচালক মাওলানা আবুল হাসান প্রমুখ।