সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নাবিলার পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল

সুপ্রিম কোর্ট

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে শিশু নাবিলার (১) মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআরটিসি, পুলিশের আইজি, ডিআইজি ট্রাফিক, ঢাকা মেট্রোপলিটন দক্ষিণের ডিসি ও মোহাম্মাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট ৯ জনকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১৯ নভেম্বর) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. আব্দুল হালিম। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল।

উল্লেখ্য, গত ২২ অক্টোবর শিশু নাবিলাকে (১) নিয়ে তার মা  রিকশাযোগে নিউ মার্কেট থেকে মোহাম্মদপুরে যাচ্ছিলেন। এসময় আসাদগেটের কাছে একটি ট্রাক তাদের রিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তখন শিশু নাবিলা মায়ের কোল থেকে ছিটকে রাস্তায়  ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে।  সঙ্গে সঙ্গে  হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনার পর মোহাম্মদপুর থানা এবং পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনও মামলা কিংবা কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পরে ওই শিশুর পক্ষে রিটটি দায়ের করেছিলেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন।

এর আগে  গত ২৯ অক্টোবর সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে ট্রাকের চালককে আটক করা ও আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের পক্ষ থেকে নোটিশের কোনও জবাব দেওয়া হয়নি, যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করে।

পরে আদালতের আদেশের বিষয়ে ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালতের আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নাবিলার মৃত্যুর পর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তা প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৬ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।