তদন্ত কর্মকর্তা কমলাপুর জিআরপি থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, ‘কমলাপুর জিআরপি থানায় দায়ের করা মামলায় এনামুল হকের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করা হয়। আসামি পক্ষে আইনজীবী কবিরুজ্জামান রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। রাষ্ট্র পক্ষে জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
শনিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি টিম এনামুল হককে বিমানবন্দর এলাকা থেকে আটক করে। পরে তার বিরুদ্ধে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করে গ্রেফতার দেখানো হয়।
গত বুধবার (২১ নভেম্বর) থেকে এনামুল হক নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবার রাজধানীর দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল। জিডিতে বলা হয়, তিনি আশকোনা থেকে নিখোঁজ হন।
এনামুলের স্ত্রী নাজমিন সুলতানা জানান, গত ২৩ অক্টোবর দেশে এসেছিলেন এনামুল।
র্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এনামুল হক কোরিয়াতে বসে বাংলা ট্রিবিউন, বিবিসি বাংলা, প্রথম আলোসহ অন্তত ২২টি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকল করেছিল। বাংলাদেশে বসে তার মাস্টার কার্ড ব্যবহার করে ডোমেইন কিনতো, এরপর কোরিয়াতে বসে নকল সাইট তৈরি করতো। এনামুল হক ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছে। তখন সে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিল। বৃত্তি পেয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কিওংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (কেএনইউ) পিএইচডি গবেষণায় চলে যায়। সেখানে বসে এসব নকল সাইট তৈরি করে। এসব নকল সাইট তৈরির সঙ্গে বাংলাদেশ, কোরিয়া ও ইতালিতে বিশাল একটি চক্র আছে। তার গ্রামের বাড়ি পাবনা। ’
আরও পড়ুন: বাংলা ট্রিবিউনসহ প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট নকলকারী র্যাবের হাতে গ্রেফতার