বিদেশ ফেরত অসহায় নারীদের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: রৌনক জাহান

সংবাদ সম্মেলনে রৌনক জাহানপ্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রৌনক জাহান বলেছেন, ‘বিদেশ ফেরত অসুস্থ, আহত ও অসহায় নারীসহ সকল অভিবাসী কর্মীদের উন্নয়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

রৌনক জাহান বলেন, 'অভিবাসী কর্মীদের বহির্গমন ও প্রত্যাবর্তন সম্মানজনক ও সুষ্ঠু করার জন্য মন্ত্রণালয় আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে বিমানবন্দরে ডেস্কসমূহে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিমানবন্দরে কর্মীদের যেন কেউ অসম্মান বা তাকে নিয়ে টানা হেঁচড়া অথবা হয়রানি না করতে পারে, এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নাধীন আছে।'

তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স জাতীয় উন্নয়নের অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। আপনারা জানেন সরকারের উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ডে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিবেচনায় নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। আমাদের এ সাফল্যে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিটেন্সের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মন্ত্রণালয় সফলভাবে কাজ করছে । ক্রমান্বয়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সঞ্চিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে যা আমাদের অর্থনীতিকে দাঁড় করিয়েছে শক্ত ভিত্তির ওপর। '

শ্রমবাজার ব্যাপকভাবে বহুমুখীকরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকারের সর্বাত্মক প্রয়াস ও অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে বৈদেশিক শ্রমবাজারে ব্যাপকভাবে বহুমুখীকরণ হয়েছে। বর্তমানে সরকার বিগত আমলে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ৯৭টি দেশে কর্মী পাঠানো হতো, এখন ১৬৮টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। বর্তমান সরকারের শ্রম ও কূটনীতির সাফল্যের কারণে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।'

রৌনক জাহান বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালে জাতিসংঘে অভিবাসন বিষয়ে একটি সামগ্রিক রূপরেখা সম্বলিত যে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন, গত ১০ থেকে ১১ ডিসেম্বর মরক্কোর মারাকাশে অনুষ্ঠিত ইন্টার গভর্নমেন্টাল কনফারেন্সে ১৬৪ দেশ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশনের ( জিসিএম) ২৩টি উদ্দেশের আলোকে আমরাও বাংলাদেশের অভিবাসন নীতি ও বিধি-বিধানকে আরও বেশি প্রবাসীবান্ধব করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন নিশ্চিত করতে জিসিএম একটি রূপ হিসেবে কাজ করবে এবং এ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।'

তিনি বলেন, '১৮ ডিসেম্বর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় “আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০১৮” উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই দিবসটি জাতীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী মেলাসহ ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। অভিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি  মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।'

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থ ও প্রশাসন) আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (কর্মসংস্থান) ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, বিএমইটি মহাপরিচালক সেলিম রেজা প্রমুখ।