শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রাণা দাশগুপ্ত বলেন, আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনি ইশতেহারে ৭২ এর সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা কথা উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সংবিধান জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন তাতে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও অনুন্নত সম্প্রদায়সহ সকল নাগরিকের সমমর্যাদা ও অধিকার সুনিশ্চিত করেন। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে এর সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জ্ঞাপন করে বলতে চাই, বিদ্যমান সংবিধান ৭২-এর সংবিধান নয়। এই সংবিধান সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা ও অধিকার সুনিশ্চিত করে না। তাই আমরা ৭২ এর সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি আবার উত্থাপন করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এ তিনটি বড় রাজনৈতিক দলের ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের মধ্যে তুলনামূলক বিচারে আওয়ামী লীগের ইশতেহার অধিকতর গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল। সব রাজনৈতিক দল প্রায় অভিন্ন সুরে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, সমতল আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন এবং পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের বাস্তবায়নসহ পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া সিপিবিসহ বাম রাজনৈতিক দলগুলো আরও অনেক ব্যাপারে আমাদের সাত দফা দাবির বেশ কয়েকটি দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। এ ধরনের অঙ্গীকার ঘোষণার জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আশা করি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যারাই সরকার গঠন করুক বা সংসদের বিরোধী দলের অবস্থান নিক তারা তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথ বাস্তবায়নে আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, সাংবাদিক বাসুদেব ধর ও শ্রীমতি মঞ্জু ধর প্রমুখ।