ট্রাফিক শৃঙ্খলা কার্যক্রমে পুলিশের কড়াকড়ি অবস্থানের কারণে বাস মালিকরা তাদের লক্কর-ঝক্কড় ও লাইসেন্সবিহীন অবৈধ বাস সড়কে নামাচ্ছেন না। ফলে সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। সকাল থেকে নগরীর বেশ কয়েকটি পয়েন্ট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে নামে পুলিশ। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবারও রাজধানীতে সপ্তাহব্যাপী ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা কার্যক্রম’ হাতে নেয় পুলিশ। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে এ কার্যক্রম চলছে।
ট্রাফিক পুলিশের এমন কার্যক্রমের ষষ্ঠ দিন রবিবার (২০ জানুয়ারি) নগরীর রামপুরা, খিলগাঁও, বাসাবো, ফকিরাপুল, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ ও কাওরান বাজারসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত গাড়ি স্বাভাবিক সংখ্যায় চলাচল করলেও গণপরিবহন ছিল কম। এসব এলাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যাত্রীরা গণপরিবহন পাচ্ছেন না।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাসাবো ফুটওভারব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে বেশ কয়েকজন যাত্রী দাঁড়িয়ে আছেন। তারা বাস পাচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দু-একটি বাস আসতে দেখা গেলেও তাতে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়।
মগবাজার এলাকায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ— ট্রাফিক পুলিশ যখনই সড়কে কড়াকড়ি অবস্থানে থাকে, তখনই মালিকরা ইচ্ছে করে পরিবহন কমিয়ে দেন। তাদের অবৈধ পরিবহনগুলো তখন রাস্তায় থাকে না। তারা বৈধভাবে পরিবহন ব্যবসা করতে চান না। সে কারণেই এমন অবস্থা।
খিলগাঁও বাসস্টপেজে দাঁড়িয়ে থাকা উত্তরার যাত্রী সোহেল মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ (রবিবার) অন্যান্য দিনের তুলনায় পরিবহনের সংখ্যা অনেক কম দেখা যাচ্ছে। অনেকেই দাঁড়িয়ে আছেন। আমিও দাঁড়িয়ে আছি। অনেক সময় পর দুই-একটি বাস আসছে, কিন্তু ভিড় থাকায় ওঠা যাচ্ছে না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহাখালী বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাস্তায় তো বাস রয়েছে। কিন্তু আজ আমাদের বাস মালিকদের সাধারণ সভা হচ্ছে। অনেকেই এই সভায় যোগ দিয়েছেন। সে কারণে হয়তো গাড়ি কিছুটা কম থাকতে পারে।’
জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়কে যানবাহনের চিত্র তো আগের মতোই রয়েছে। ট্রাফিক সপ্তাহে আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি, যাতে কেউ যত্রতত্র রাস্তা পারাপার না হন। পাশাপাশি অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।’