রাষ্ট্রপক্ষের এক রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে, এস এম আব্দুর রউফের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব।
পরে আইনজীবী মামুন মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, ‘এস এম আব্দুর রউফের মামলায় এর আগে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং আপিল বিভাগে লিভ টু আপিলে (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) তার চাকরি পুনর্বহাল ছিল। কিন্তু রিভিউতে সেই আদেশ বাতিল হয়ে গেছে। ফলে ওই বিচারককে চাকরিচ্যুতির আদেশ বহাল রয়েছে। যদিও তিনি ইতোমধ্যে অবসরে চলে গেছেন। তবে এ রায়ের (রিভিউ) মধ্যদিয়ে তার একটা কলঙ্ক থেকে গেলো।’
জানা গেছে, এস এম আব্দুর রউফ পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা জজ থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে জামিন প্রদান, ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর ২০০০ সালের ১১ জুন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। বিভাগীয় মামলার তদন্তে ওই বিচারককে দোষী সাব্যস্ত করে তিনটি বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করার দণ্ডারোপ হয়। এরপর এই শাস্তির অনুমোদনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টে প্রস্তাব পাঠায়।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের জিএ (জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) কমিটি মন্ত্রণালয়ের দণ্ডারোপের প্রস্তাব বাতিল করে তাকে চাকরিচ্যুতির আদেশ দেন।
এরপর সুপ্রিম কোর্টের ওই সুপারিশ অনুযায়ী ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সেই সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতিও অনুমোদন দেন। পরে ওই বিচারক রাষ্ট্রপতির কাছে একটি রিভিউ আবেদন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সাড়া না পেয়ে ২০১১ সালে বিচারক আব্দুর রউফ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন।
এরপর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল তাকে চাকুরিতে পুনর্বহালের আদেশ দেন। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে তা তামাদি (নির্দিষ্ট সময়ে না করায়) হওয়ার কারণে ২০১২ সালের ১১ এপ্রিল খারিজ হয়ে যায়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। কিন্তু এই লিভ টু আপিলও তামাদিজনিত কারণে খারিজ হয়ে যায়। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ওই লিভ টু আপিলের খারিজ আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে
আবেদন করে। যার শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) আপিল বিভাগ ওই বিচারকের চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ বাতিল করেন।