এরপর অভিযানের সময় উপস্থিত অভিভাবকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। যেকোনও মূল্যে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা (পাঠদান) নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে দণ্ডবিধির ১৬৬ ধারা প্রয়োগ করবে দুদক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি হবে এমন কিছু বরদাশত করা হবে না।’
জানা যায়, সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে নগরীর কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন দুদক চেয়ারম্যান। সে সময় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের স্কুলের বাইরে দেখে অবাক হন তিনি। স্কুলের আটজন শিক্ষকের মধ্যে শুধু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন, বাকি সাতজন শিক্ষকই ছিলেন অনুপস্থিত। ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের আশপাশে আচার-চানাচুর খেয়ে অলস সময় পার করতে দেখেন তিনি।
এ সময় দুদক চেয়ারম্যানকে কাছে পেয়ে সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন অভিভাবকরা।
এরপর নগরীর ভাটিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান দুদক চেয়ারম্যান। সেখানে ১১ জন শিক্ষকের মধ্যে ২ জন শিক্ষককে অনুপস্থিত পান তিনি। তাদের অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে স্কুল কর্তৃপক্ষ কিছু জানাতে পারেনি। দুদক চেয়ারম্যান ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি পরীক্ষা করে দেখেন। তিনি জানতে পারেন, শনিবার (২৬ জানুয়ারি) যেসব শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল তাদের অনেককেই উপস্থিত দেখানো হয়েছে। এছাড়াও আজ রবিবার বেলা ১০টা পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের রোল কল করা হয়নি। এ বিষয়েও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এরপর দুদক চেয়ারম্যান নগরীর শীতলপুর উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি জানতে পারেন, টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা কোনও শিক্ষার্থীকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন দুদক চেয়ারম্যান। তবে নবম শ্রেণিতে এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করা ছাত্রছাত্রীদের ২ হাজার টাকার বিনিময়ে দশম শ্রেণিতে প্রমোশন দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘এটা অনৈতিক। শিক্ষাক্ষেত্রে অনৈতিকতার কোনও স্থান থাকতে পারে না।’