দুর্নীতি মামলায় বাবুল চিশতীর জামিন বিষয়ে রায় কাল



মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী)ফারমার্স ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা ও নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীর (বাবুল চিশতী) বিরুদ্ধে ভ্রমণভাতা বাবদ সাড়ে ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন বিষয়ে জারি করা রুলের ওপর শুানানি শেষ হয়েছে। আগামীকাল বুধবার (৩০ জানুয়ারি) চিশতীর জামিন বিষয়ে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আসামি পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক।
২০১৮ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি করেন দুদকের উপ সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান। এ মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত গত বছরের ৪ নভেম্বর জামিন আবেদন না মঞ্জুর করলে বাবুল চিশতীর পক্ষে ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। পরে গত ১৯ নভেম্বর তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, সেই মর্মে ৪ সপ্তাহের রুল দেন হাইকোর্ট।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকের প্রচলিত বিধি উপেক্ষা করে ব্যবসায়িক বৈঠকের নামে ২০১৭ সালের ১৯ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত লন্ডন ও আরব আমিরাত ভ্রমণ করেন চিশতী। ওই ভ্রমণের ভাতা বাবদ ব্যাংকের ৯ লাখ ২৪ হাজার ৬৭৩ টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেন তিনি।
দুদকের দায়ের করা এজাহারমতে, বিদেশে ব্যবসায়িক ওই সফরটি ছিল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কাজের অংশ। ব্যাংকের বিধি মোতাবেক ওই ভ্রমণে পরিচালনা পর্ষদের কোনও সদস্যের যাওয়ার সুযোগ নেই। সফরে যাওয়ার কথা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত কর্মকর্তাদের। তারপরও বাবুল চিশতী প্রভাব খাটিয়ে এই সফরে যান, যা ব্যাংকের অর্থে বিদেশ ভ্রমণ ছাড়া আর কিছুই না।
দুদকের অনুসন্ধান শেষে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় চিশতীর বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন অবস্থায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিচারাধীন আছে।