মালিবাগে দুটি গার্মেন্টসে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি

বিজিএমইএ

রাজধানীর মালিবাগে লুমান ফ্যাশন লি. ও লুফা গার্মেন্টস নামে দুটি কারখানায় গত তিন দিন ধরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, নতুন মজুরি কাঠামো অনুযায়ী বেতন চাওয়ায় গার্মেন্টস বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মালিকপক্ষ। এ কারণেই রবিবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে গার্মেন্টস দুটিতে অন্তত সাতশ’ শ্রমিক অবস্থান করছে।

শ্রমিকরা বলছে, নতুন মজুরি কাঠামো চালু হওয়ার পর থেকে মৌখিকভাবে মালিকপক্ষ বলছিল- গার্মেন্টস বন্ধ করে দেওয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার কারখানার বিভিন্ন মালামাল অন্য জায়গাতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। শ্রমিকরা তা টের পেয়ে কারখানাতেই অবস্থান নেন। কারখানা বন্ধ করার বিষয়ে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের কোনও নোটিস দেয়নি, অথচ কারখানার মালামাল নিয়ে যাচ্ছিল।

এদিকে পুলিশ বলেছে, শ্রমিকরা মালিক পক্ষের কাছে কোনও টাকা পায় না। এখন কিছু শ্রমিক কারখানায় অবস্থান নিয়ে দুষ্টুমি করছে। এখানে শ্রমিকদের দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটি মন্টু গ্রুপ এবং অপরটি বাবুল গ্রুপ। বাবুল গ্রুপের সবাই বিজিএমইএ-তে গিয়ে মালিকের সঙ্গে কথা বলছে, আলোচনা করছে। তবে মন্টু গ্রুপের কেউ বিজিএমইএ-তে যায়নি। তারা কারখানায় অবস্থান নিয়ে আছে। 

লুমান ফ্যাশন লি. এর সুইং অপারেটর নুর মোহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত ২৮ বছর ধরে লুমান ফ্যাশন চলছে। এত বছরের মধ্যে কারখানার মালিক লুৎফর রহমান মতিন শ্রমিকদের বেতন নিয়ে কোনও ঝামেলা করেননি। ঠিকমতো সবার পাওনা দিয়েছেন। তবে নতুন মজুরি কাঠামো চালু হওয়ার পর থেকে মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলছেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যাতে চলে যাই সেজন্য মালিকপক্ষের লোকজন ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’

এদিকে অপর এক অপারেটর জুয়েল বলেন, ‘গত ডিসেম্বর মাসের বেতন আমার ২০ জানুয়ারি পেয়েছি। কিন্তু কোনও নোটিস না দিয়ে কারখানা বন্ধ করার জন্য মালামাল সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। মালিকপক্ষ আমাদের সঙ্গে কোনও কথা বলছেন না। তারা আমাদের বিভিন্ন ভাতা ও আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের পাওনাগুলো কীভাবে দেবেন, সে বিষয়ে আমাদের এখনও কিছুই বলেনি।’  

এবিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লুমান ফ্যাশন লি. এর মালিক তার কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছেন। এখনও কোনও নোটিস শ্রমিকদের দেননি। তবে বন্ধ করে দেওয়ার কথা বললে হবে না, কারণ বিজিএমইএ, শ্রমিক ফেডারেশন এবং আইন আছে, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।’  

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানামতে, এই কারখানার কোনও শ্রমিক মালিকের কাছে কোনও টাকা পাবে না। আজও বিজিএমইএ’র নেতারা কারখানার মালিককে নিয়ে মিটিং করেছে। এবিষয়ে আগামীকাল আবারও মিটিং হবে। আইনগতভাবে শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধের সমাধান বের করতেই চেষ্টা চলছে।’  

একই মালিক লুৎফুর রহমান মনিতের লুমান ফ্যাশন লি. এবং লুফা গার্মেন্টস দুটি মালিবাগ ৪৭৫/বি ডিআইটি রোডের পাশাপশি অবস্থিত। তবে মালিবাগের রামপুরা থানার অংশে লুমান ফ্যাশন লিমিটেডের ৬০০ থেকে ৭০০ শ্রমিক অবস্থান করছে। এদিকে মালিবাগের হাতিরঝিল থানার অংশে লুফা গার্মেন্টস কারখানায় অন্তত দেড় শতাধিক শ্রমিক অবস্থান নিয়েছেন।    

এবিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ ফজলে করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লুফা গার্মেন্ট লি. এর মালিক তার এই কারখানাটি বন্ধ করে দেবে। এজন্য বিজিএমইএ-তে আলোচনা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারও এ বিষয়ে বিকাল ৩টার দিকে মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে।’ তবে আইনগতভাবেই এর সমাধান হবে বলেও জানান তিনি।