রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ তথ্য জানান র্যাব-১ অধিনায়ক সারওয়ার-বিন-কাশেম। তিনি বলেন, ‘গত ২৭ জানুয়ারি দুপুরে শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাসায় ভুক্তভোগী ছাত্রী ছাড়া আরও কয়েকজন পড়তে যায়। পড়ানো শেষে সবাইকে বের করে দিয়ে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে তার কক্ষে যেতে বলেন ওই শিক্ষক। এ সময় শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ২৮ জানুয়ারি আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।’
ঘটনার পর থেকে শিক্ষক মামুন পলাতক ছিল বলে জানান র্যাব-১ অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আশুলিয়া থেকে পালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অবস্থান নেয় মামুন। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘১৮ বছর ধরে আশুলিয়ার বাইতুল মাহমুদ জামে মসজিদে ইমামতি করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী ও সন্তানরা গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরায় ছিলেন। শিক্ষার্থীরা তার কাছে বেলা ১২টার দিকে পড়তে যায়। মক্তবে পড়ানো শেষে অন্য ছাত্রছাত্রীদের চলে যেতে নির্দেশ দিয়ে ভুক্তভোগীকে তার নিজের কক্ষ ঝাড়ু দিতে বলেন ওই শিক্ষক। সবাই চলে যাওয়ার পর জোর করে ভিকটিমের নগ্ন ছবি তুলে সেই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে সে। কাউকে এ বিষয়ে জানালে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে বলেও ভুক্তভোগীকে হুমকি দেয়। পরে ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষণের ঘটনা তার বাবা-মাকে জানায়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরদিন ২৮ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’