বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট হেল্থ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (ইউপিইএইচএসডিপি) আওতায় নির্মিত এসটিএস দুটিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি ও লিফটার মোটরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, দরজা-জানালা ভাঙা, বৈদ্যুতিক বাল্ব নষ্ট,দেয়ালে ফাটল ধরেছে, ছাদের টিন মরিচা ধরে ফুটো হয়ে গেছে,অফিস রুমের বৈদ্যুতিক পাখা বিকলসহ নানান সমস্যা বিরাজ করছে। এ নিয়ে ডিএসসিসি’র কোনও উদ্যোগ নেই। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার এসটিএস দু’টি নির্মাণ করায় এমন অবস্থা বিরাজ করছে। এ দু’টি এসটিএস ছাড়া বাকিগুলোতে কিছু সমস্যা থাকলেও সেগুলো অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল হাজারীবাগের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কালুনগর বেড়িবাঁধের পাশে একটি বর্জ্যঘর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। প্রায় দু’বছর পর ২০১৬ সালের ৯ মার্চ ডিএসসিসি’র মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ওই বর্জ্যঘর উদ্বোধন করেন। এছাড়া, ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর একই ওয়ার্ডের মেটাডোর এলাকায় আরেকটি বর্জ্যঘর (এসটিএস) উদ্বোধন করা হয়। এটিও উদ্বোধন করেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। চার হাজার ২০০ বর্গফুট আয়তনের প্রতিটি বর্জ্যঘর নির্মাণে খরচ হয়েছে দুই কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এরইমধ্যে এসটিএস দুটিতে পানি ও লিফটার মোটরের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, দরজা-জানালা ভেঙে গেছে, বৈদ্যুতিক বাল্ব নষ্ট,দেয়ালে ফাটল ধরেছে, ছাদের টিন মরিচা ধরে ফুটো হয়ে গেছে,অফিস রুমের বৈদ্যুতিক পাখা বিকলসহ নানান সমস্যা বিরাজ করছে। এতে করে বর্জ্যের গন্ধে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
এই এসটিএস-এর তদারকির দায়িত্বে থাকা মো. আদম আলী নূরু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এক বছর আগে মেয়র সাহেব ও এমপি সাহেব এই স্টেশনটি উদ্বোধন করে গেছেন। যেদিন উদ্বোধন করেছেন তার পরের দিন থেকে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিল বাকি থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন এসে লাইন কেটে দিয়ে গেছে। যে দু’টি ভ্যান ও লিফটার রয়েছে তাও নষ্ট। ফলে গাড়িতে করে আনা বর্জ্যগুলো এখানে অপসারণ করা যায় না। পানির ব্যবস্থা না থাকায় টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা টয়লেট ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করতে পারেন না। ময়লা নিয়ে যাওয়ার পর স্টেশনের ফ্লোর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার কথা থাকলেও ধোয়া যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘ছাদের টিনে মরিচা ধরে ফুটো হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্টেশনের ভেতর পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। এ অবস্থায় কাজ করতে কর্মীদের সমস্যা হয়। বিষয়টি অনেকবার সিটি করপোরেশনের স্যারদের জানিয়েছি। তারা কোনও ব্যবস্থা নেন না।’ গত এক বছর ধরে কোনও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলে জানান কেয়ারটেকার আদম আলী নূরু।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দাবি,সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনা ও তহবিল না থাকার কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জানতে চাইলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এমএস বিলাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী বিলাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রকল্পটি এডিবির অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু কথা ছিল নির্মাণ শেষে এসটিএসের যন্ত্রগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন লিফট ম্যান ও একজন ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। কিন্তু সিটি করপোরেশন তা করেনি। ভুল অপারেটের কারণে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে।’
ছাদের টিনে মরিচা ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেখানে অনেক বর্জ্য জড়ো হয়। বর্জ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস ছড়ায়। সে কারণে টিনে মরিচা ধরতে পারে। ’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. তৌহিদ সিরাজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসটিএস দু’টিতে যে অনিয়ম হয়েছে, সেটা আমার সময়ে হয়নি। এগুলো আগে নির্মাণ হয়েছে। এর সঙ্গে আমি জড়িত নই।’
ডিএসসিসি’র অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা আমাদের নজরে এসেছে। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেবো।’