সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন, নাগরিক উদ্যোগের জাকির হোসেন। অন্যদের মধ্য বক্তব্য রাখেন—স্টেপস এর রঞ্জন কর্মকার, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শাহিন আনাম, এসএনএফ এর হামিদা হোসেন, এএলআরডি এর শামসুল হুদা, এএসএফ এর সেলিনা আহমেদ ও আসক এর তামান্না হক রিতী।
সংবাদ সম্মেলনে রঞ্জন কর্মকার বলেন, ‘একটি জনবসতিবহুল এলাকায় এ ধরনের ব্যবসা করার দায় সরকারের পাশাপাশি এখানকার মানুষেরও। তারা আইন না মেনে দিনের পর দিন সেখানে ব্যবসা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘সচেতনার জন্য আগুন লাগার কারণগুলো জনগণকে জানানো উচিত।’
শামসুল হুদা বলেন, ‘রাসায়নিক এই ব্যবসার জন্য আলাদা আইন করা দরকার। জরিপ করা দরকার, কী পরিমাণ এ ধরনের গুদাম আছে পুরান ঢাকায়।’ তিনি বলেন, ‘নিমতলীর ঘটনার পর যেসব প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন কেন হলো না তার জবাবদিহিতা থাকা দরকার।’
শাহিন আনাম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার পর যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, সেগুলো বাস্তবায়ন করলে আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এই অবস্থায় জাতীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই প্রতিরোধই এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে আমাদের বাঁচাতে পারে।’
হামিদা হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে হলে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এ জন্য জাতীয়ভাবে আলাদা আইন করে দোষীদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন করতে হবে। জনসচেতনতাও জরুরি।’
ফোরামের পক্ষ থেকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু দাবি করা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি দাবিগুলো হচ্ছে—অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তসহ কারণ অনুসন্ধানের জন্য কমিটি গঠন করে রিপোর্ট দেওয়া, উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীর গতির কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শাস্তি দেওয়া, আহতদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা, ক্ষতিপূরণ ও পূনর্বাসন করা, এ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মজুত করলে শাস্তির বিধান ও তা কর্যকর করা, সব ধরনের বিল্ডিংয়ে অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
দীর্ঘমেয়াদি দাবির মধ্যে রয়েছে—পুরান ঢাকায় আগুন প্রতিরোধক প্রশিক্ষণ ও মহড়ার ব্যবস্থা করা, সেখানকার গুদাম ও কারখানাগুলো অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করা।