পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা অপসারণে দুটি টাস্কফোর্স গঠন





চকবাজার ট্র্যাজেডিপুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউন অপসারণের জন্য দুটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে পুরান ঢাকা থেকে সব কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর দ্রব্যের কারখানা অপসারণ করা হবে।
সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ জরুরি সভায় তিনি এ কথা জানান।
সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমরা পুরান ঢাকার কেমিক্যাল কারখানা অপসারণের জন্য দুই স্তরবিশিষ্ট দুটি টাস্কফোর্স গঠন করে দেবো। প্রথম স্তরে থাকবে সংস্থার প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। যে কমিটি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে করণীয় এবং এর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। পাশাপাশি বাস্তবায়নের বিষয়ে কাজ করবে। আর দ্বিতীয় কমিটি অনগ্রাউন্ডে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে আমাদের ১৫টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। এর মধ্য থেকে দুই-তিনটি ওয়ার্ড সমন্বয় করে এই কমিটি কাজ করবে। আমরা দুই স্তরবিশিষ্ট টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করে পুরান ঢাকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল গুদাম অপসারণের কাজ শুরু করতে চাই। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) এই টাস্কফোর্স অনগ্রাউন্ডে কাজ শুরু করবে। যেসব ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কাজ শুরু করবেন। যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল কারখানার অস্তিত্ব পাওয়া যাবে তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। যেসব সংস্থা ইউটিলিটি সার্ভিস সেবা দিয়ে থাকে তারা এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সার্ভিস বন্ধ করে দেবে।’

সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমি ভিডিওটা নিজেই দেখেছি। ওই ঘটনার মামলা তদন্ত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমার কাছে যেটা প্রমাণ হয়েছে যে সিলিন্ডারগুলো যেখানে ছিল বিস্ফোরণটা প্রথমে ওখানেই হয়েছে। সেখান থেকে রেস্টুরেন্টে গিয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি ওয়াহিদ ম্যানশনের দ্বিতীয় তলার বডি স্প্রে’র গোডাউনে গিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাহ্য পদার্থ ছিল। এর কারণে আগুনের ভয়াবহতার সৃষ্টি হয়েছে।’
সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান, রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুর রহমান, ওয়সার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিন এ খান, তিতাস গ্যাসের এমডি মোস্তফা কামাল, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক সোহরাব আলী, বিস্ফোরক অধিদফতরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক শামসুল আলম, ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহম্মাদ ফেরদৌস খান, ডিপিসির এমডি বিকাশ দেওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।