অবশ্য হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের উল্টোদিকে রয়েছে চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদ। প্রতি নামাজের ওয়াক্তে ব্যারিকেড শিথিল করায় সেখানে ভিড় করা লোকজন ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ধাক্কাও সামলে উঠছে পুরান ঢাকা।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন এ চিত্র দেখা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবন হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে পুড়ে যাওয়া গাড়ি-মোটর সাইকেল-রিকশার আলামত এখনও রাখা আছে। ভবনের অপর পাশে রাজ্জাক ম্যানশনের সামনেও রয়েছে আলামত।
পুরান ঢাকার চকবাজারে নন্দ কুমার দত্ত রোড ও শেখ আজগর লেন মিলিত হয়েছে চুড়িহাট্টা মোড়ে। মোড়ের আজগর আলী লেন, নন্দ কুমার দত্ত রোড, হায়দার বক্স লেনে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে চকবাজার থানার পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।
২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে লাগা আগুনে ৬৭ জন নিহত হন। পরে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান আরও দুইজন। পোড়া লাশগুলোর মধ্যে এখনও ১৯টির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মোহসিন কাজ করেন ইসলামবাগের একটি কাপড়ের দোকানে। তিনি চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশন কোনটা, জানতে চাইছিলেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘ভবন তো পুইড়া কয়লা হইয়া গেছে। এইডাও কখন জানি ভাইঙ্গা পড়ে।’ এরপরও ঝুঁকি নিয়ে সেখানে উঁকি দিয়ে কী দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেমনে পুড়ছে সেটাই দেখতে আসছি।’
এদিকে বিদ্যুতের সংযোগের জন্য আজগর আলী লেনে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে চুড়িহাট্টা শাহী জামে মসজিদের সামনে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও সেখানে রয়েছেন।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম অর রশিদ তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এসব আলামত হিসেবে আমরা সরিয়ে নেবো। কারণ, এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে, পুড়ে যাওয়া গাড়ি, মোটরসাইকেল রিকশা, ভ্যান— সব আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হবে।’
এখনও আলামত ঘটনাস্থলে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে সেগুলো পরিদর্শন করছেন তদন্তের স্বার্থে। সেজন্য আলামতগুলো এখনও ঘটনাস্থলে রাখা হয়েছে।’
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বুয়েটের পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে। পরে বিস্ফোরক অধিদফতরের একটিও কমিটি সেখানে যায়।