সুস্থভাবে বাঁচতে চায় যুথী




প্লেক্সিফর্ম নিউরোফাইব্রোমা রোগে আক্রান্ত যুথীজন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয় শিশু যুথী (৭)। বর্তমানে সে প্লেক্সিফর্ম নিউরোফাইব্রোমা রোগে ভুগছে। রোগের কারণে তার মুখের একপাশ ফুলে গেছে ও চামড়া ঝুলে পড়েছে। বর্তমানে যুথী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। তার চিকিৎসক নুরুন্নাহার হ্যাপির দাবি তিনটি অস্ত্রোপচার করলে যুথী সুস্থ হয়ে উঠবে। তবে চিকিৎসা ও চিকিৎসা পরবর্তী খরচ বহনের সক্ষমতা যুথীর পরিবারের নেই।

সরেজমিনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, যুথী মায়ের সঙ্গে সেখানে অবস্থান করছে। যুথীর চিকিৎসা নিয়ে কথা হয় রেড ইউনিটের কারেন্ট ইনচার্জ সহকারি অধ্যাপক নুুরুন্নাহার হ্যাপির সওেঙ্গ।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা হচ্ছে টাইপ ওয়ান নিউরোফাইব্রোমেটোসিস উইথ প্লেক্সিফর্ম নিউরোফাইব্রোমা। এই ধরণের রোগীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে কেউই প্রথম অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে আসে না। প্রথমে হয় হুজুরের কাছে পানি পড়া নেয়, আর নয়তো হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের কাছে যায়।’

অসুস্থ যুথীতিনি আরও জানান, ‘যুথীর পুরো অস্ত্রোপচার একবারে সম্ভব না। একবারে পুরোটা আনাও যায় না। সফলভাবে তার মুখের শেইপ ফেরাতে তিনবার পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে। বেশি দেরি হলে ওর মুখের একটি পাশ আরও নিচের দিকে ঝুলে যাবে। গালসহ, চোখের নিচসহ ঝুলে চলে আসবে। এই ধরণের রোগী আমরা প্রায়ই পাই। এদের শরীরে অন্যখানেও এগুলো থাকে। সারা দেহে প্রচুর স্পট থাকে। ছোট ছোট গোটা গোটা স্পট থাকবে। জন্ম থেকে যে সমস্যা মানুষ নিয়ে আসে তা পুরোপুরি দূর করা যায় না।’

চিকিৎসক নুরুন্নাহার বলেন, ‘এই মুহূর্তে শীতকালীন বার্নের রোগী বেশি। বার্ন এবং ক্যান্সারের রোগী সবার আগে অপারেশনের সময় পায়। এরপর আমরা অন্য রোগীদের অপারেশনের তারিখ দেই। তারপরও আমরা চেষ্টা করি শিশুদের আগে দিতে। কারণ প্রত্যেক মা বাড়িতে তার আরও দুই/তিনটা শিশু রেখে আসে। তাই এদের আগে ছাড়তে হয়।’

অস্ত্রোপচারের খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে সবকিছুর সাপ্লাই সেভাবে দেওয়া সম্ভব হয় না। একশ’ বেডের হাসপাতালে ছয়শ’ রোগী থাকে। একশ’র থেকে বেশি সাপ্লাই দেওয়া হয়। কিন্তু বাকিগুলো কীভাবে হবে। ওর যদি স্পেশাল সুতাসহ অন্য কিছু লাগে যা আমাদের সাপ্লাই নেই তখন আমরা কিনতে দেবো।’

প্লেক্সিফর্ম নিউরোফাইব্রোমা রোগে আক্রান্ত যুথী সুস্থ হতে চায়যুথীর মা সালমা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওর বাবা মাসরুর সরদার দিনমজুরের কাজ করে। বড় মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া বিথী (১৪) ও যুথী(৭) কে নিয়ে আমাদের সংসার। হোমিও চিকিৎসককে দেখিয়েছি একটানা পাঁচ বছর। এরপর বাদ দিয়েছি। ওর কোনও ব্যথা হয়না। চুলকায়। এমনিতে খাবারের প্রতি ওর রুচি খুবই কম।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত দিনতো ওরে নিয়ে ঢাকায় আসতে পারিনি। টাকা-পয়সার সমস্যা ছিল। ওর বাবা জমির কাজ করে কিছু টাকা যোগাড় হয়েছে, এরপর ঢাকায় আসি। এখন এই হাসপাতালে ভর্তি আছি। হাসপাতাল থেকে বেড ভাড়া ফ্রি, তিনবেলা খাবার দেয়। কিন্তু যুুথী খেতে পারে না তাই বাইরে থেকে খাবার কিনতে হয়। দিনে খাবারের পেছনে গড়ে একশ টাকা করে খরচ হচ্ছে। আমার ইচ্ছা পুরো ট্রিটমেন্ট করে তারপর বাড়ি যাবো। যদি কেউ সাহায্য করে তো নেবো।’

যুথীর জন্য তার মায়ের বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠানো যাবে- ০১৭৩৮ ১৯৭৯৪২।