প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ

আইপিএম কর্মকর্তা ও অতিথিদের ফটোসেশনপ্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যেকোনও প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে দক্ষ কর্মীর ওপর। মুনাফা বৃদ্ধি ও প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে যুগোপযোগী মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে, এজন্য ২০৩০ সালে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০ লাখ দক্ষ জনবল প্রয়োজন হবে। অধিক বিনিয়োগ করেও দক্ষ কর্মী নিয়োগ না করলে সুফল আসবে না। দ্ক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করতে প্রয়োজন গুণগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। শুক্রবার (১ মার্চ) সকাল ৯টায় রাজধানীর মহাখালীতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপকদের সংগঠন ইনস্টিটিউট অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট (আইপিএম) আয়োজিত মানবসম্পদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

দেশব্যাপী দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে আইপিএমকে সহায়তার আশ্বাস দেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দ্ক্ষ মানবশক্তি ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই সরকার তরুণ প্রজন্মকে দ্ক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেসব প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দক্ষতা অর্জন করে অনেকেই দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও চায় দ্ক্ষ জনশক্তি। ফলে দেশে দক্ষ জ শক্তি তৈরিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন বেসরকারি উদ্যোগ। আইপিএম এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’

আইপিএমের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ারুল আজিম। তার কথায়, ‘১৯৮০ সালে যখন আইপিএম গঠিত হয়, তখন এদেশে প্রশাসন বা কর্মী ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পেশজীবীদের কোনও প্ল্যাটফর্ম ছিলো না। আইপিএম প্রথম পাবলিক ও প্রাইভেট খাতে এইচআর প্রফেশনালদের নিয়ে কাজ শুরু করে। আইপিএম বিভিন্ন মেয়াদী কোর্স পরিচালনা করছে। দীর্ঘ ৩৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কার্যকর এফিলিয়েশনI আইপিএম যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব পার্নোনেল ডেভলপমেন্টের এফিলিয়েটেড প্রতিষ্ঠান।’

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগমকে সম্মাননা দিয়েছে আইপিএমঅনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইপিএমের মহাসচিব শাকিল মেরাজ। তিনি বলেছেন, ‘দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। আর উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদI একটি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে পরিচালিত হবে তখনই যখন পরিচালনার ভার থাকবে দক্ষ কর্মীর হাতে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দক্ষতা, প্রেষণা, ব্যবস্থাপনার জন্য মানবসম্পদ বিভাগ জরুরি। যার মাধ্যমে কর্মীদের সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। দেশে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আইপিএম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এফবিএইচআরও’র সভাপতি মোশাররফ হোসেন, আইপিএমের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সাবেক সভাপতি এবিএম ওসমান গণি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর চৌধুরী মফিজুর রহমান প্রমুখ।

দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ছিল একাধিক সেশন। এগুলোতে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন। প্রথম সেশনে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন আইসিটি ডিভিশনের এলআইসিটি প্রজেক্টের টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট মো.আসাদ-উর-রহমান। কর্মক্ষেত্রে দক্ষ কর্মী নিয়োগ, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মীর দক্ষতা সর্বোচ্চ ব্যবহারের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ভারতের ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনার্স অ্যান্ড স্পিকার্সের সভাপতি যোগেশ কুমার। ব্যবসায় সাফল্য ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কর্মী ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল থট লিডার ড. ইডি এল হ্যানসন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজক ও অতিথিরাসমাপনী অধিবেশন শুরু হয় বিকাল ৪টায়। এতে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জামাল মোহাম্মদ আবু নাসের, লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব বাংলাদেশের সিইও অরূপ দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ অর্গানাইজেশন ফর লার্নি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সভাপতি কাজি এম আহমেদ। সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আইপিএমের মহাসচিব শাকিল মেরাজ।

ছবি: বাংলা ট্রিবিউন