প্রগতিশীল ছাত্রজোটের প্রচারঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। সোমবার (৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন মিলনায়তনে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামানের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় প্রচারে নেমে পড়েন। এতে ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা লিফলেট বিতরণ করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের কলা ভবন, ব্যবসা অনুষদ, অপরাজেয় বাংলা, হাকিম চত্বর, মধুর ক্যান্টিন, লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন এলাকা প্রার্থীদের পদচারণায় মুখর। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্রার্থীদের প্রচারে নামতে দেখা যায়নি। তাদের পক্ষে কর্মীরা ক্যাম্পাসে লিফলেট বিতরণ করছেন। অন্যদিকে ছাত্রদল লিফলেট ছাড়াই প্রচারণায় নেমেছে।
ছাত্র ফেডারেশন সমর্থিত প্রার্থীর লিফলেট বিতরণপ্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য সমর্থিত বামজোটের প্যানেলে সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী লিটন নন্দীর নেতৃত্বে কলা ভবন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, টিএসসি এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন বামজোটের প্রার্থীরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও ডাকসুর ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুরুর নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে প্রচারণা চালাচ্ছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সমর্থিত ভিপি প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজির ক্যাম্পাসে লিফলেট বিলি করেছেন। আত্মমর্যাদাশীল ক্যাম্পাসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভোট চান তিনি। প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য সমর্থিত লিটন-ফয়সাল সাদিক পরিষদের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী প্রার্থীদের ‘প্রভু নয়, বন্ধু ভাবার’ আহ্বান জানিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন।
এছাড়া প্রচারণায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী, স্বতন্ত্র জোট, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, ছাত্রমৈত্রী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রার্থীরা। তারা ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হচ্ছেন।
ছাত্রদলের প্রচারবাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নূর বলেন, ‘আমরা আচরণবিধি মেনে আজকে থেকে প্রচারণা চালাচ্ছি। অনেক ছাত্র সংগঠন কিন্তু আগে থেকেই প্রচারণা করছে। আমরা আসলে জানি না এভাবে অবাধ প্রচারণা কতদিন চালাতে পারবো। আমাদের মধ্যে এখনও শঙ্কা কাজ করছে।’
অন্যদিকে লিফলেট ছাড়াই ক্যাম্পাসে প্রচারণা করছে ছাত্রদল। এভাবে কেন প্রচারণায় নেমেছেন জানতে চাইলে প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন দুরভিসন্ধিমূলকভাবে ছাত্রলীগকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য ব্যালট নম্বর দেয়নি। বিভিন্ন জায়গায় আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগেই তারা প্রচারণা করছে, কিন্তু আমরা সেই সুযোগ পাচ্ছি না। ব্যালট নম্বর না দেওয়ায় আমরা লিফলেট ছাপাতে পারছি না।’
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রচারণাউল্লেখ্য, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ২৫ পদের বিপরীতে ২২৯ জন প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ২১ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ১৪ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ১৩ জন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৯ জন, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে ৯ জন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১ জন, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮ জন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ১২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১ জন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে ১০ জন, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ জন এবং ১৩ জন সদস্য পদের বিপরীতে ৮৬ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী আব্দুল্লাহ জিয়াদ, বামজোটের পক্ষ থেকে জিএস প্রার্থী উম্মে হাবিবা বেনজীর, স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এ আর এম আসিফুর রহমান ও সদস্য প্রার্থী শাফায়াত হাসনাইন সাবিত চূড়ান্ত তালিকায় তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ অফিস থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট হলের রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়।
আরও পড়ুন: ডাকসু নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকছে