স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবরক্ষক আবজাল হোসেনের দুর্নীতিতে সহযোগিতার অভিযোগে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. রেজাউল করিমসহ ছয় চিকিৎসককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে চলবে দুপুর পর্যন্ত।
অন্য যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন— কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মায়েনুল, মেডিসিন বিভাগের সহযাগী অধ্যাপক ডা. মো. ফরহাদ হোসেন, সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ ও হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবুল বারকাত মুহাম্মদ আদনান।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৪ জনকে তলব করে নোটিশ পাঠায় দুদক। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে ১, ২ ও ৩ এপ্রিল সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
২ এপ্রিল যে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তারা হলেন— স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন এবং লাইন ডিরেক্টর, প্রি-সার্ভিস এডুকেশনের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুর রশিদ, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আলম, সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শহিদুল হক ও অ্যানাটমি বিভাগের প্রভাষক ডা. মো. আশরাফুল ইসলাম।
এরপর ৩ এপ্রিল আরও চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক। তারা হলেন— কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র সাহা, প্যাথলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুহা. কামরুল হাসান, স্টোর কিপার মো. আবু জায়েদ ও হিসাবরক্ষক হুররমা আকতার খুকী।
প্রসঙ্গত, দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমে গত ১০ জানুয়ারি আবজালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এর আগে ৬ জানুয়ারি আবজাল ও তার স্ত্রী রুবিনা খামনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দুদকের আবেদনের পর ২১ জানুয়ারি আবজাল ও রুবিনার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেন জব্দ করার আদেশ দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত। ১৮ মার্চ আবজাল ও তার স্ত্রী স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রোক করে দুদক।
আবজাল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ— নিয়োগ,বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, কাজ না করে বিল তুলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।