রাজউক সংশ্লিষ্টরা জানান, বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে যেসব তথ্য সংগ্রহ করতে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলো হচ্ছে ভবনের মূল মালিক এবং নির্মাণকারী উদ্যোক্তা বা ডেভেলপারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। রাজউক অনুমোদিত নকশা আছে কিনা, থাকলে নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কিনা, কার পার্কিং ও সেট ব্যাক সঠিক আছে কিনা এবং এসবের ব্যত্যয় হলে কী পরিমাণ হয়েছে, তার বিস্তারিত থাকতে হবে।
একইসঙ্গে যে বিধিমালা (২০০৮ বা তার পূর্বে) অনুসরণ করে নকশা অনুমোদন করা হয়েছে, সে অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা তথা জরুরি নির্গমনপথ আছে কিনা এবং সিঁড়ির প্রশস্ততা সঠিক আছে কিনা, সেসব তথ্যও সংগ্রহ করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রয়োজনীয়সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আছে কিনা, এ বিষয়টিও দেখতে হবে। এর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ফায়ার ফাইটিং নকশা ও অনাপত্তি দেওয়া হয়েছিল কিনা এবং তারা নির্মাণের সময় ও পরে তদারকি করেছিল কিনা, সে তথ্যও সংগ্রহ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অগ্নিনিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখার জন্য এ বিষয়ে জানাশোনা লোকজনই লাগবে। তারা বলছেন, অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা অন্য কারো পক্ষে সহজ নয়।
অথচ রাজউকের টিমে ফায়ার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখার মতো বিশেষজ্ঞ কোনও ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। রাজউক তাদের নিজস্ব জনবল দিয়েই এ তথ্যগুলো সংগ্রহ করছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে মাঠে নেমেছে রাজউক। সকালে সংস্থাটির জোন-৬-এ পরিচালিত একটি টিমের নেতৃত্ব দেন রাজউক পরিচালক (অ্যাডমিন) ও জোন-৬ (মতিঝিল, ভুলতা)-এর অথরাইজড অফিসার খন্দকার অলিউর রহমান। এসময় তিনি ১০ তলার ওপরের বেশ কয়েকটি ভবন পরিদর্শন করেন। ভবনের নকশাসহ নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখেন তিনি।
জানতে চাইলে খন্দকার অলিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এখনও ফায়ার সার্ভিস বা অন্য কেউ নেই। রাজউক তাদের নিজস্ব জনবল দিয়েই ১০ তলার অধিক ভবনগুলোর বিষয়ে নানা তথ্য নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ফায়ারের পুরো বিষয়টি দেখে ফায়ার সার্ভিস। আমরা ভবনে নকশা অনুযায়ী কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে কিনা, সেগুলোর তথ্য সংগ্রহ করছি। নকশা অনুযায়ী ফায়ার সেফটিগুলো ভবনে রয়েছে কিনা, সেগুলোও দেখছি।’