বুধবার (৩ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান সমিতির বিদায়ী ও পুনরায় নির্বাচিত সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
এর আগে গত ১৩ ও ১৪ মার্চ দু’দিনব্যাপী এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন পাঁচ হাজার ৮২১ জন আইনজীবী।
এরপর গত ১৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির হল রুমে ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান। নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল সম্পাদক পদসহ আটটি পদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। পাশাপাশি সরকার সমর্থিত প্যানেল সাদা দল সভাপতি পদসহ ছয়টি পদে জয়লাভ করে।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে সভাপতি, একজন সহ সভাপতি, এক জন সহ সম্পাদক পদ ও তিনজন সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন। আর বিএনপি প্যানেল থেকে সম্পাদক, এক জন সহ সভাপতি, একজন কোষাধ্যক্ষ,একজন সহ সম্পাদক ও চারজন সদস্য পদে জয় লাভ করেন।
সভাপতি পদে এম আমিন উদ্দিন পান তিন হাজার ২২৫ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এ জে মোহাম্মদ আলী পান দুই হাজার ৪৪৩ ভোট। আর সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন পান তিন হাজার ৫৭ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুন নূর দুলাল পান দুই হাজার ৬৪৯ ভোট।
সহ সভাপতি পদে বিজয়ী হন বিএনপির আব্দুল বাতেন (দুই হাজার ৮৫৬ ভোট) ও আওয়ামী লীগের মো. জসিম উদ্দিন (দুই হাজার ৮৪৯ ভোট)।
কোষাধ্যক্ষ পদে জয়ী হন বিএনপির মো. ইমাম উদ্দিন (দুই হাজার ৯৪৭ ভোট)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মো. সৈয়দ আলম টিপু পান দুই হাজার ৮৩০ ভোট।
সহ সম্পাদক পদে (দুই জন) জয়ী হন আওয়ামী লীগের কাজী শামছুল হাসান শুভ দুই হাজার ৭২৯ ভোট এবং বিএনপির শরিফ ইউ আহমেদ পান দুই হাজার ৭২২ ভো)।
সদস্য পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল থেকে আফিফা আফরোজ, মো. শামিম সরদার ও চঞ্চল কুমার চোধুরী জয়ী হন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে নির্বাচিত হন— কাজী আক্তার হোসেন, রাশিদা আলিম ঐশী, মো. ওসমান চৌধুরী এবং সৈয়দা শাহিন আরা লাইলী।
প্রসঙ্গত, প্রতিবছর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২০১৮-১৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা নিরঙ্কুশ জয় পাযন। সভাপতি, সম্পাদকসহ ১০টি পদে জয় লাভ করে এই প্যানেল। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল) সমর্থিত প্রার্থীরা চারটি পদে জয় লাভ করেন।