হলি আর্টিজান হামলা মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ৯ এপ্রিল


হলি আর্টিজানরাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলা মামলায় দুইজনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। এ সাক্ষ্য নেওয়া শেষে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ৯ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে।


বুধবার (৩ এপ্রিল ) ঢাকার সন্ত্রাস দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ আদেশ দেন।
সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিরা হলেন গিয়াস উদ্দিন ও মতিয়ার রহমান।
এদিকে আসামি রাকিবুল হাসান রিগ্যানের পক্ষে তার আইনজীবী ফারুক আহম্মদ চিকিৎসার আবেদন করলে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসার নির্দেশ দেন। অপর আসামি আসলাম কারাবিধি অনুযায়ী উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এইচএসসিতে ও আসামি শরিফুল ইসলামের অনার্সে ভর্তির আবেদন করলে সে বিষয় আদেশ পরে দেবেন বলে জানান আদালত।
এ পর্যন্ত ২৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মামলাটি পরিচালনা করেন।
এ মামলায় মোট ২১ আসামির মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নিহত ১৩ জনের মধ্যে আটজন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং পাঁচজন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
জীবিত আট আসামি হলো হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।
এদের মধ্যে পলাতক আছে মামুনুর রশিদ। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাকি সাতজন আসামি কারাগারে আছে।
ঘটনাস্থলে নিহত পাঁচ আসামি হলো রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। এছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত আট আসামি হলো তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।