বায়ুদূষণের চিহিৃত উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে হবে: পবা

বায়ুদূষণে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য, দূষণ নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বনাম প্রকল্প ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকবায়ুদূষণ রোধে শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন জরুরি বলে জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। সংগঠনটি বলছে, বায়ুদূষণের চিহ্নিত উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অংশীজনদের সঙ্গে রোডম্যাপ তৈরি করে বাস্তবায়নের জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।
সোমবার (৮ এপ্রিল) পবা কার্যালয়ে ‘বায়ুদূষণে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য, দূষণ নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বনাম প্রকল্প ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশবাদীরা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এ বৈঠকের আয়োজন করে। বক্তারা বলনে, বায়ুদূষণের অচিহ্নিত উৎসগুলো শনাক্ত এবং তা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান পরিবেশ অধিদফতর থেকে বরাদ্দের মাধ্যমে করতে হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা জানান, বিশ্বে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, গত বছর ১৯৭ দিন রাজধানীবাসী দূষিত বাতাসে ডুবেছিল। আগের বছরগুলোতে রাজধানীর বাতাস বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১২০ থেকে ১৬০ দিন দূষিত থাকতো। অর্থাৎ ঢাকার বায়ুদূষণ সময়ের বিবেচনায়ও বিপজ্জনক হারে বাড়ছে। পরিবেশ অধিদফতর বলছে, রাজধানীর বাতাসে দ্রুত দূষণকারী পদার্থ ছড়িয়ে পড়ছে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের কারণে। আর দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই সরকারি। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতর বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।
বক্তারা আরও বলেন, ঢাকায় বায়ুদূষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। এজন্য বায়ুদূষণের প্রধান প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করে সেগুলির উৎস কমানো বা বন্ধ করার ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, পবা’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সোবহান, পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, নাসফের সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব আলী, ক্যাব নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ, মো. সেলিম প্রমুখ।