প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সেই ১২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা





অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিমন্ত্রীর বদলির সুপারিশআর্থিক দুর্নীতিতে জড়িত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সেই ১২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বদলিসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৯ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসের এ-সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ে সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসব কর্মকর্তাকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বদলি করা এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী সোমবার ফাইল অনুমোদন দিয়েছেন।’
২০১৫ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে চাপা দিয়ে রাখা একটি তদন্ত প্রতিবেদন গত ১ এপ্রিল প্রকাশ্যে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সচিবকে নির্দেশ দেন। এ-সংক্রান্ত খবর বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশ পায়
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের টিএ/ডিএ এবং সম্মানীর অর্থ দুর্নীতি নিয়ে ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা এবং ওই সময়ের উপপরিচালক হুমায়ুন কবীর। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওই সময়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল (বর্তমানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব) এবং অধিদফতরের আরও ১২ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযুক্ত এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ওই সময়ের উপপরিচালক শেখ মো. রায়হান, উপপরিচালক ইফতেখার হোসেন ভুইয়া, কর্মকর্তা মিজাউল ইসলাম, আতাউর রহমান, অনুজ কুমার ও সোনিয়া আকবর, সহকারী পরিচালক রাজা মিয়া, শিক্ষা অফিসার মাহফুজা বেগম, শিক্ষা অফিসার শামসুননাহার, শিক্ষা অফিসার মো. মজিবুর রহমান, শিক্ষা অফিসার মাহফুজুর রহমান জুয়েল এবং সহ-শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম।
২০১৫ সালের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওই সময়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার ভ্রমণে দুই দফা টিএ/ডিএ তোলেন। একইভাবে অধিদফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের আরও ১২ কর্মকর্তা অতিরিক্ত টিএ/ডিএ তুলে নেন। প্রতিবেদনে আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং অধিদফতরের আরও ১২ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত তুলে নেওয়া টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, একই ব্যক্তি একাধিক স্থান থেকে একই তারিখে সম্মানী, টিএ/ডিএ তুলেছেন, যা তার প্রাপ্য অর্থের চেয়ে বেশি। আবার বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সব বিমানবন্দরের জন্য একই পরিমাণে টিএ/ডিএ দাবি করেছেন এবং নিয়েছেন। একইসঙ্গে একই পথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক স্থান থেকে টিএ/ডিএ নেন। অনেক ক্ষেত্রে উল্লিখিত স্থানে না গিয়ে বা অনুষ্ঠান শুরুর আগে টিএ/ডিএ তুলে নেন। কোনও ধরনের সময়সূচি উল্লেখ না করে ভ্রমণ আদেশ জারি করেন এবং ভ্রমণ আদেশ ছাড়া পরিদর্শন ও ভ্রমণ বিল তুলে নেন।