তাজরীন ফ্যাশনস গার্মেন্টসে আগুন লেগে ১১১ জন শ্রমিক নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ ৮ মে ( বুধবার) সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। এদিন আদালতে সাক্ষী না আসায় রাষ্ট্রপক্ষ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য সময়ের আবেদন করেন। এরপর বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৫ জুন পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন। মামলাটিতে এ পর্যন্ত ৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত।
বুধবার ( ৮ মে) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক প্রদীপ কুমার রায় শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী নূর মোহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।
মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক দেলোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, লোডার শামীম, স্টোর ইনচার্জ (সুতা) আল আমিন, সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল আমিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, অ্যাডমিন অফিসার দুলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনোয়ারুল, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জুর ও শহীদুজ্জামান দুলাল।
অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন রানা, রাজ্জাক, মঞ্জুর ও দুলাল।
২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর মামলাটি তদন্তের পর ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির পুলিশের (উপ-পরিদর্শক) একে এম মহসীনুজ্জামন।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়, ভবনটির নকশায় ত্রুটি ও জরুরি নির্গমনের পথ না থাকায় এবং আগুন লাগার পর শ্রমিকরা বাইরে বের হতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা অগ্নিকাণ্ডকে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া বলে শ্রমিকদের কাজে ফেরত পাঠিয়ে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেয়। এ কারণে আগুন লাগার খবর জেনেও শ্রমিকরা বাইরে বের হতে পারেননি।
গত ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
গত ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১১১ জন গার্মেন্টসের পোশাক শ্রমিকরা নির্মমভাবে মারা যান।