অভিবাসন বাজেট বৃদ্ধিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ

জেন্ডার রেসপনসিভ বাজেট টু এমপাওয়ার উইমেন মাইগ্রেন্টস’ শীর্ষক সেমিনারগত কয়েক অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমেছে। তার অন্যতম কারণ নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের অভাব। তাই অভিবাসন বাজেট বৃদ্ধিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন খাতের স্টেকহোল্ডাররা। রবিবার (৩০ জুন) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি), বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র (বিএনএসকে), ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রাকাশ প্রকল্পের উদ্যোগে ‘জেন্ডার রেসপনসিভ বাজেট টু এমপাওয়ার উইমেন মাইগ্রেন্টস’ শীর্ষক সেমিনারে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
আইআইডি’র প্রধান নির্বাহী সাঈদ আহমেদ বলেন, গত তিন-চার বছরে একটা গ্যাপ ছিল, সেখানে আমরা দেখেছি অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন হয়েছে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও ডেমো’র মাধ্যমে। সেই কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। এখন নারীর অংশগ্রহণের জন্য নতুন প্রকল্প নিতে হবে।
আইআইডি’র পক্ষ থেকে অন্য প্রস্তাবের মধ্যে ছিল নারী-পুরুষের পরিস্থিতি ও চাহিদার ভিন্নতা বুঝে কর্মসূচি গ্রহণ, আগামী বছরের বাজেট প্রস্তুতিতে এখনই সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ, প্রশিক্ষণে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ, প্রশিক্ষণের গুণগত মান ও অবকাঠামোর জেন্ডার-সংবেদনশীলতায় বিনিয়োগ, নতুন শ্রমবাজার অন্বেষণে নারীর চাহিদা ও যোগ্যতার ভিন্নতাকে আমলে নেওয়া, কর্মকর্তাদের জেন্ডার-সংবেদনশীলতার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ এবং অভিবাসন ও অভিযোগের অনুপাতে বাজেট বরাদ্দের সমন্বয়করণ।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম হেড শরিফুল হাসান কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, আমরা যদি একটি অভিবাসন সপ্তাহ করতে পারি তাহলে ব্যাপকহারে সচেতনতা তুলে ধরা যায়। এটার জন্য ভালো সময় আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস ১৮ ডিসেম্বর। আরেকটা মেকানিজম খুব জরুরি, তা হলো- বিদেশে একটা বাড়িতে আমাদের দেশের নারীরা বিপদে পড়লে পালিয়ে আসা ছাড়া উপায় থাকে না। এজন্য একটা নম্বর কিংবা হটলাইন কিংবা অন্য কিছুর ব্যবস্থা করা জরুরি।
অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের চেয়ারম্যান শাকিরুল ইসলাম বলেন, বিদেশ ফেরত ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য সরকারের একটি সামাজিক নিরাপত্তা স্কিম তৈরি করা জরুরি। যদি একজন নারী কর্মী বিদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফেরত আসেন তাহলে তার পুরো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটা এক ধরনের সামাজিক ব্যয় তৈরি করছে।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস বলেন, জেন্ডার রেসপনস বাজেট আমাদের দেশে খুব পুরানো নয়। মাত্র ৩৭ হাজার কোটি টাকা দিয়ে শুরু হয়, চারটি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন সেটা মোট বাজেটের ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি হচ্ছে, একটি আইনি কাঠামো। জেন্ডার গ্যাপকে দূর করার জন্য আমাদের আইনি কাঠামো খুব শক্ত।
মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সবাইকে নিয়ে বসে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে প্রচারণায় কাজ করছি। ইতিবাচক মনস্তত্ত্ব, কাজের প্রতি মনোনিবেশ, নিজেকে যাচাই এসব বিষয়ে আমাদের প্রচুর কাজ করতে হবে। বাজেট কম আছে সেটা আমি স্বীকার করি। এই বাজেট বাড়ানো সম্ভব, বাজেট একবার হয়ে সেটা বাড়ানো যাবে না এ রকম না।

সেমিনারে বিএনএসকে’র নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘মানুষ জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে যখন বিদেশে যায় তখন আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব কীভাবে এই শ্রমজীবী মানুষগুলোর জন্য জেন্ডার বাজেট বাড়িয়ে নারীর কল্যাণে ব্যয় করা যায় সেটা ফোকাস রাখা।’

অনুষ্ঠানের প্রথম সেশন সঞ্চালনা করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা এবং দ্বিতীয় সেশন সঞ্চালনা করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সৈয়দ সাইফুল হক।