প্রতিবন্ধকতাকে জয় করা বৃষ্টি একদিন স্বনির্ভর হবে- স্বপ্ন মায়ের

প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কার্ডে ছবি এঁকে এক লাখ টাকার চেক পেয়েছে বৃষ্টিবাইরে শ্রাবণের বৃষ্টির মধ্যে ঘরে ১০ বছরের মিষ্টি মেয়ে বৃষ্টি। সে আনন্দে নাচে, হাসে, ছবি আঁকে আপন ভুবনের। প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কার্ডে নিজের আঁকা ছবি দেখে হাততালি দিয়ে ওঠে নির্বাক বৃষ্টি। ১০ বছরের বৃষ্টি কথা বলতে পারে না। কিন্তু তার চোখে-মুখে কৃতজ্ঞতা আর আনন্দ ফুটে ওঠে। সম্প্রতি তার হাতে সম্মানী হিসেবে এক লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। পথচলার শুরু দেখে তার মা রোকেয়া বেগম স্বপ্ন দেখেন একদিন স্বনির্ভর হবে বৃষ্টি।

এ বছর প্রধানমন্ত্রীর বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা কার্ডে ‘শুভ নববর্ষ-১৪২৬’ তার আঁকা ছবি ব্যবহার হয়েছে। বৃষ্টির বাবা মো. আলী রিকশা চালান, মা গৃহকর্মী। মেয়ের এই প্রাপ্তিতে সম্মানিত বোধ করছেন জানিয়ে বৃষ্টির বাবা মো. আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার খুবই আনন্দ হচ্ছে। সবচেয়ে খুশি হয়েছে তার স্কুলের শিক্ষকরা। আমার মেয়ে ১০ বছর বয়সেই এক লগে এক লাখ টাকা কামাইছে। কয়জন বাচ্চা পারে। আমি নিজেই পারিনি।’
কবে থেকে ছবি আঁকে বৃষ্টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ও স্কুলে যাওয়ার পর থেকে ছবি আঁকে। মনের আনন্দে সে রঙ ব্যবহার করে আঁকাআঁকি করে। আমার মেয়ে একদিন বড় হবে।’
সোসাইটি ফর এডুকেশন অ্যান্ড ইনক্লুশন অব দ্য ডিজএবল (সীড) -এর কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ বলেন, ‘বৃষ্টিরাই আমাদের শক্তি। তাদের দেখলে বোঝা যায় প্রতিবন্ধিতা প্রতিবন্ধকতা নয়। একে জয় করা সম্ভব, জয় করতেই হবে।’
তিনি জানান, বৃষ্টি সীডের শিক্ষার্থী। কোনও প্রতিবন্ধকতাই তাকে থামাতে পারেনি। বৃষ্টি ২০১৬ সালে সীডে ভর্তি হয়। দু’বছরে অক্ষরজ্ঞান ভালোই রপ্ত করেছে। যখন তার কোনও বিষয় প্রকাশের ইচ্ছা জাগে তখন ইশারা আর রঙ তুলি দিয়ে আবেগ প্রকাশ করে সে।

আরও পড়ুন: অটিস্টিক শিশুদের জন্য অন্তঃপ্রাণ এক প্রধানমন্ত্রী