বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকালে নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এ কথা বলেন।
মেয়র বলেন, ‘এ বছর এমন সময়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে, যখন ঢাকায় অনেক মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত। ডেঙ্গুতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘নগরবাসী যেন উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে পবিত্র ঈদুল-আযহা উদযাপন করতে পারেন সে লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিয়েছে। ডিএনসিসি এলাকায় ১০টি পশুর হাট বসেছে।’
আতিকুল ইসলাম জানান, নতুন যুক্ত হওয়া এলাকাসহ এবার ডিএনসিসিতে তিন লক্ষাধিক পশু কোরবানি দেওয়া হবে; যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬৮ হাজার বেশি। কোরবানির পশু জবাই করার জন্য মহাখালী পশু জবাইখানাসহ ২৭৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কোরবানি করা যাবে এমন আরও ৪০০টি স্থান চিহ্নিত করা আছে। মহাখালী পশু জবাইখানায় যারা কোরবানির পশু নিয়ে আসবেন তাদের পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুত বাবদ ২৫ ভাগ খরচ ডিএনসিসি বহন করবে। তাছাড়া ডিএনসিসির গাড়ি দ্বারা মাংস বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কোরবানির জন্য ১০০ জন ইমাম ও ২০০ জন মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কোরবানির বর্জ্য অপসারণের জন্য বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় ডিএনসিসির নিজস্ব দুই হাজার ৪০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক হাজার ৪৩৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করবে। এছাড়া আরও এক হাজার ১০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বাসাবাড়ি থেকে ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় চার হাজার ৫০০ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। ঈদের দিন হতে জবাই করা পশুর বর্জ্য অপসারণ এবং পশুর হাট পরিষ্কারের জন্য আমাদের নিজস্ব বর্জ্যবাহী ট্রাক, ভারী যন্ত্রপাতি, ওয়াটার বাউজারের পাশাপাশি আউটসোর্সিং হতে অতিরিক্ত গাড়ি দেওয়া হবে।
আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগের দিন থেকে পরের দুই দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্জ্য অপসারণের জন্য বর্জ্যবাহী ড্রাম্প ট্রাক ও খোলা ট্রাক ১৬৯টি, ভারী যান-যন্ত্রপাতি ২৮টি, পানির গাড়ি ১১টি, বেসরকারি ৮২টি এবং ভাড়ায় ১৪৮টি পিকআপভ্যানসহ মোট ৪৩৮টি গাড়ি নিয়োজিত থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে মহাখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ে অস্থায়ী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর: ৯৮৩০৯৩৬।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মো. মঞ্জুর হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।