কখন আসবে বাস





ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে উদগ্রীব নগরবাসী। এ কারণে অগ্রিম বাসের টিকিট কেটে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজধানীর বাস কাউন্টারগুলোতে হাজির হচ্ছেন তারা। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসের দেখা পাচ্ছেন না। শনিবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে সকালে যেসব বাস ছাড়ার কথা ছিল, সেগুলো দুপুর পর্যন্তও পৌঁছায়নি। এ নিয়ে ঘরমুখো মানুষের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ক্ষোভ বেশি। 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এবং বঙ্গবন্ধু সেতুতে থেমে থেমে যান চলছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেনি অনেক গাড়ি। এ অবস্থায় সাধারণ যাত্রীদের এখন একটাই প্রশ্ন, গাড়ি কখন আসবে?


গাবতলী ও কল্যাণপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গগামী বাসের কাউন্টারে অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড়। এদের সবার বাসই সকালে ছাড়ার কথা থাকলেও দুপুর ২টা পর্যন্ত তা এসেই পৌঁছায়নি। রোদে-গরমেও অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। উত্তরবঙ্গগামী শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নুরুল আমিন জানান, সকাল সাড়ে ৭টা, ৯টা ও ১০টার বাস ঢাকায় এসে পৌঁছায়নি। যমুনা সেতুর দুই পাড়েই জ্যাম রয়েছে। তাই গাড়ি আসতে পারছে না। এছাড়া ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কেও জ্যাম আছে।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার থেকেও একই কথা জানানো হয়। জ্যামের কারণে গাড়ি এসে পৌঁছায়নি।
অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তরবঙ্গ রুটে ঈদের সময় বরাবরই প্রায় একই চিত্র থাকে। রংপুরগামী যাত্রী ফারুক হোসেন বলেন, ‘গতবার ঈদের সময় আমার রংপুর যেতে সময় লেগেছিল ১৩ ঘণ্টা। ঈদের সময় গাড়ির চাপ এত থাকে যে রাস্তায় গাড়ি আস্তে আস্তে চলে। এমনকি জ্যাম যমুনা সেতুর ওপরেও থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি একজায়গায় বসে থাকার ঘটনাও ঘটে। তাই বাস কখন এসে পৌঁছবে কেউ জানে না।’
ছোট্ট শিশুসহ পরিবার নিয়ে কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন জাহাঙ্গীর আলম। তার গাড়ি ছাড়ার কথা ছিল সকাল ৮টায়। কিন্তু রাজশাহী থেকে গাড়ি এখনও এসে পৌঁছায়নি। তিনিও উদগ্রীব হয়ে জানতে চান, ‘গাড়ি কখন আসবে?’
এছাড়া পাটুরিয়া-আরিচা ঘাট থেকে গাড়ি ঢাকায় পৌঁছাতেও বেশি সময় লাগছে বলে জানা যায়। দক্ষিণবঙ্গ রুটের গাড়ি দিগন্ত পরিবহনের ম্যানেজার আব্দুর রহমান বলেন, ‘ভোরের আজানের সময় ফেরি থেকে নেমেছে আমাদের মোংলার গাড়ি। সেটা ঢাকায় এসে পৌঁছায় সকাল ১০টায়। অথচ ঘাট থেকে গাবতলী ১ ঘণ্টার রাস্তা।’ ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়ির চাপে ওইদিকের গাড়িও আসতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বাংলা ট্রিবিউনের টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতুতে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষকে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এমন চিত্র দেখা যায়। টাঙ্গাইল পার হতেই ৫-৬ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।
সরেজমিনে গিয়ে যেখা যায়, শুক্রবার রাত থেকেই উত্তরের পথে গাড়িগুলো থেমে থেমে চলছে। সড়কের চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত একই চিত্র। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিরাজগঞ্জ দিয়ে গাড়ি ঠিকমতো পার হতে না পারার কারণে টাঙ্গাইলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু কী কারণে সিরাজগঞ্জ দিয়ে গাড়ি যেতে পারছে না, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা সঠিকভাবে বলতে পারেনি। শুক্রবার (৯ আগস্ট) দুপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গাড়ি আটকে ছিল। পরে বিকালের দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে রাতে আবার ধীরগতি নেমে আসে মহাসড়কে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ সহিদ আলম বলেন, হঠাৎ করেই একদিকে যানবাহনের চাপ, অন্যদিকে হুড়োহুড়ি করে যাওয়ার সময় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যানবাহন একেবারে থেমে নেই, আস্তে আস্তে চলছে বলে জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের এসআই ও কড্ডা পুলিশ ফাঁড়ির রশিদুল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমে কড্ডার মোড় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত নলকা সেতু পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ধীরগতিতে গাড়ি চলছে। অ্যারিস্ট্রোক্র্যাট মোড়ে সরু ইছামতি সেতুর কারণে এ ধীরগতি বলে তিনি জানান।