ফুটপাতে ট্রাস্ট পরিবহনের বাস: আহত কৃষ্ণা জানেন না পা হারানোর কথা





হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কৃষ্ণা রায়রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ফুটপাতে ট্রাস্ট পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসের চাপায় পা হারান কৃষ্ণা রায় (৫০)। বর্তমানে তিনি পঙ্গু হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাসচাপায় তিনি বাম পা হারিয়েছেন। তবে এখনও তিনি পা হারানোর বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি।

বুধবার (১৮ আগস্ট) সকালে পঙ্গু হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডের সামনে গিয়ে কৃষ্ণা রায়ের কথা জিজ্ঞেস করতেই সবাই দেখিয়ে দিচ্ছেন তিনি কোথায় আছেন। হাসপাতালের রোগী, চিকিৎসক, নার্সসহ সবাই জানেন বাসচাপায় তিনি পা হারিয়েছেন। তবে কৃষ্ণ রায় নিজে এখনও পা হারানোর কথা জানেন না।

হাসপাতালে তার বেডের পাশে ছেলে ও স্বামীর পাশাপাশি স্বজনরাও রয়েছেন। স্বামী রাজেশ্বর চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অপারেশনের পর জ্ঞান ছিল না। মধ্যরাতে জ্ঞান ফিরেছে। এখন ডাক দিলে সাড়া দেয়, কথাও বলে। তবে পায়ের কথা জানতে চায় মাঝে মাঝে। সে এখনও জানে না তার পা নেই।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর নিজেই ফুটপাতে উঠে বসে। এরপর পথচারীদের নিজেই হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। দুই তরুণ তাকে উদ্ধার করে হলি ফ্যামিলিতে নিয়ে যান। এরপর সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রক্ত বন্ধ করা হয়। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথচারী ওই দুটি ছেলে অনেক কষ্ট করেছে, তারা আমার স্ত্রীকে পঙ্গুতে নিয়ে যায়। হলি ফ্যামিলির চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেওয়ায় ভালো হয়েছে। তা না হলে রক্তক্ষরণেই কৃষ্ণা মারা যেত।’

রাজেশ্বর চৌধুরী বলেন, ‘হলি ফ্যামিলিতে নেওয়ার পর আর জ্ঞান ছিল না। এরপর পঙ্গুতে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়। সেখানে অজ্ঞান করেই অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর রাতে কিছু সময় অচেতন ছিল। এরপর মধ্যরাতে জ্ঞান ফিরে।’

সকালে কৃষ্ণ রায়ের এমআরআই করানো হয়েছে আগারগাঁওয়ের নিওরো সাইন্স হাসপাতালে। মাথায় কোনও আঘাত নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে বাংলামোটরে ট্রাস্ট পরিবহনের একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে যায়। এ সময় বাসটি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণা রায়কে চাপা দেয়। এতে তার বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়। কৃষ্ণা রায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। রাজধানীর পুরান ঢাকায় তার বাসায়। স্বামী ও দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে সেখানেই থাকেন। অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় ফেরার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন।

বাংলামোটরে ফুটপাতে উঠে যাওয়া বাসহাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা বাসটিকে আটক করেছি। তবে চালক পলাতক। আমরা মালিককে খবর দিয়েছি। চালককে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

বিআইডব্লিউটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কৃষ্ণা রায়ের চিকিৎসার বিষয়ে আমরা খোঁজ রাখছি। আমাদের নিজস্ব চিকিৎসকরাও তাকে দেখছেন। তার অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।’

ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়েলফেয়ারের। মিরপুর ডিওএইচএস থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এই পরিবহনের বাস চলাচল করে বলে জানিয়েছেন ট্রাস্টের সুপারভাইজার আক্তার হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাসটি আমাদের ট্রাস্টের। দুর্ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। আমাদের কাছে চালকের বায়োডাটা রয়েছে। আমরা পুলিশকে সহায়তা করছি।

ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের কর্মকর্তারা সকালে কৃষ্ণা রায়কে দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে যান। এ সময় তাদের কোনও বিষয়ে কথা বলার থাকলে বিআইডব্লিউটিসি’র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন কৃষ্ণা রায়ের স্বামী রাজেশ্বর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু বলার নেই। যা বলার তার অফিস বলবে।’