পাইপ লাইনে তেল পরিবহনে অর্থ অপচয় বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ম. তামিম। তিনি বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপ লাইনে জ্বালানি তেল পরিবহনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে করে তেল পরিবহনে অর্থ অপচয় বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকিও রয়েছে।’
বুধবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘তেল পরিবহনের ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন: অর্থেও অপচয় ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। এলায়েন্স ফর কনসার্ন সিটিজেনের উদ্যোগের বৈঠকটির আয়োজন করা হয়।
এসময় তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে সাধারণত প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আগে অংশীজন কিংবা জনগণের কোনও মতামত নেওয়া হয় না। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপ লাইনে জ্বালানি তেল প্রকল্প নেওয়ার আগেও এমনটা ঘটেছে। এতে জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। নৌপথে যারা তেল পরিবহনে যুক্ত, তাদের মতামতও নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, এ প্রকল্পের ব্যয় যে বাড়বে না তার কোনও নিশ্চয়তাও নেই। তবে নৌপথে তেল আসতে পারে।’
অন্যান্যরা বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত ২৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহন প্রকল্প নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, আর্থিক অপচয়সহ পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সেই সঙ্গে সড়ক ও নৌ পরিবহন খাতে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান নষ্ট হবে। আমাদের কোনও পরিকল্পনাই যথাযথ হচ্ছে না। পাইপ লাইনে তেল আনার বিষয়ে এমনটা হয়েছে। তবে, নৌযানে তেল পরিবহনেও পরিবেশগত ঝুঁকি আছে। সবকিছু যাচাই বাছাই করেই সরকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করার সময় অবশ্যই বিশেষজ্ঞরা এর ভালো দিক তুলে ধরেছেন। সে কারণেই প্রকল্প পাস হয়েছে।
গোল টেবিল বৈঠকে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনর (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরিবেশ সাংবাদিক কামরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।