বিচারপতি নিয়োগ সংবিধান অনুসারেই হবে: সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি

সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিনসংবিধান অনুসারেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হবে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারে সংবিধানে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। সেই অনুসারেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ হবে।’ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে আমিন উদ্দিন বলেন, ‘সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগ দেবেন। আর ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতির কাছে সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিভাগের বিচারক-সংখ্যা সাময়িকভাবে বাড়ানো উচিত বলে সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হলে তিনি যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন এক বা একাধিক ব্যক্তিকে অনধিক দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত করতে পারবেন। কিন্তু আমাদের দেশের রেওয়াজ আছে, ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া। দুই বছর পরে তাদের (অতিরিক্ত বিচারপতিদের) কার্যক্ষমতা দেখে প্রধান বিচারপতি সুপারিশ করেন। সে অনুযায়ী তাদের কনফার্ম (স্থায়ী হিসেবে নিয়োগ) করা হয়।’

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘একজন আইনজীবীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ বিচারপতির এক রায়ে নির্দেশনা রয়েছে। ওই নির্দেশনায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, যারা দুই বছর অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োজিত আছেন তাদের বিচারিক কার্যক্রমের বিষয়টি প্রধান বিচারপতি দেখবেন। অন্যান্য কার্যক্রম সরকার দেখবে। এইভাবেই কিন্তু নিয়োগ হয়ে আসছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতের নিয়োগগুলো সংবিধানের ৯৫ ও ৯৮ অনুচ্ছেদ অনুসরণ এবং ১০ বিচারপতির রায়ের ম্যান্ডেট দেখে করা হবে। সংবিধানের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। সংবিধানে সুস্পষ্ট আছে কী করতে হবে। একমাত্র ম্যান্ডেট হচ্ছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, পরামর্শ নিতে হবে। সংবিধানেই বিচারপতি নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে।’

বিচারপতি নিয়োগে কোনও নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে কিনা জানতে চাইলে এএম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘নীতিমালা তো সংবিধানের ওপরে যাবে না। নীতিমালা তো আইনও না। নীতিমালার তো বাইন্ডিং ইফেক্টও নেই। সংবিধানে বিধান স্পষ্ট আছে। তাহলে নীতিমালা হবে কেন? আইন হতে পারে (বিচারপতি নিয়োগের বিষয়ে)। নীতিমালা তো সংবিধানকে সুপারসিড করতে পারবে না।’