অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত বিদেশিদের অধিকাংশ পালিয়ে গেছেন। বিদেশিদের অধিকাংশই সীমান্ত পথে প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে গেলেও বাকিরা কোথায় আছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, অভিযান শুরুর প্রথম দিন (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সেগুনবাগিচার ৬/৬ নম্বর ভবনের পঞ্চম তলার দুটি ফ্ল্যাট থেকে ১৫ জন নেপালিকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত থাকা এএসআই গোলাম হোসেন ওরফে মিঠু ও রমনা থানার কনস্টেবল দীপঙ্কর চাকমা।
জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে র্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করেছি। এরপর অন্য কেউ যদি বিদেশিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে, তাহলে গ্রেফতার করা তো অনেক কঠিন।’
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে শতাধিক বিদেশি জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত দশজন ক্যাসিনোগুলোয় অংশীদার ছিলেন।
সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ভিক্টোরিয়া ক্লাবে নেপালি নাগরিক দীনেশ শর্মা ও রাজকুমারের হাত ধরে ক্যাসিনো চালু হয়। তাদের সহযোগী হিসেবে ঢাকায় ক্যাসিনো চালু করেন বিনোদ মানালি। ভিক্টোরিয়ায় শুরু হওয়া ক্যাসিনোটি চালুর কিছুদিনের মধ্যে তা বিক্রি করে দেন দীনেশ ও রাজকুমার। কিনে নেন বাবা নামে এক নেপালি নাগরিক। বাবা ও তার ম্যানেজার হেমন্ত মিলে ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছিলেন।
এরপর ২০১৬ সালে কলাবাগান ক্লাবে ক্যাসিনো খোলেন আরেক নেপালি অজয় পাকরাল। স্থানীয় সেন্টুর মাধ্যমে ক্লাবটিতে ক্যাসিনো চালু হয়। এই ক্যাসিনোয় শেয়ার ছিল দীনেশ, রাজকুমার ও অজয় পাকরালের। এছাড়া, বনানীর ঢাকা গোল্ডেন ক্লাবের ক্যাসিনোটিও চালাতেন অজয় পাকরাল।
সৈনিক ক্লাবে ক্যাসিনো চালাতেন নেপালি নাগরিক প্রদীপ। এই ক্লাবটিতে তার শেয়ার ছিল বলে জানা গেছে। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো পরিচালনা করতেন নেপালি নাগরিক হিলমি। এলিফেন্ট রোডের এজাক্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালু করেন ছোট রাজকুমার। তিনিও একজন নেপালি। মতিঝিল আরামবাগের দিলকুশা ক্লাবে ক্যাসিনোর মালিকানা ছিল দীনেশ, রাজকুমার ও ছোট রাজকুমারের। এছাড়া মোহামেডান ক্লাবে ক্যাসিনোর অংশীদার ছিলেন নেপালি নাগরিক কৃষ্ণা।
জড়িত বিদেশিদের ব্যাপারে র্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘যেকোনও বিদেশি নাগরিক কাজ করতে গেলে বিনিয়োগ বোর্ডের অনুমতির প্রয়োজন হয়। ক্যাসিনোগুলোয় যেসব বিদেশি কাজ করতেন বা জড়িত ছিলেন, তারা বিনিয়োগ বোর্ডের কোনও অনুমতি পাননি। তারা ট্যুরিস্ট ভিসায় এসে ক্যাসিনোগুলোতে কাজ করেছেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় তাদের অনেকেই পালিয়ে চলে গেছেন। তারা কোনও ওয়ার্ক পারমিটও নেননি। এই বিদেশিদের তথ্য পাওয়ার পর তারা যেসব বাড়িতে থাকতেন, সেসব বাড়িতে র্যাব অভিযান চালায়।’ তবে, অভিযানে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।