ঢাকা লিট ফেস্টের নবম আসরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘হাউ বলিউড ইজ আ লেন্স টু মডার্ন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক সেশনে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাদিয়া খালিদ।
কীভাবে ভারতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে আগ্রহী হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ডয়ের বলেন, গুজরাটে পিএইচডি করার সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র দেখে তার প্রথম আগ্রহ তৈরি হয়। এরপরে নানাভাবে তিনি বলিউডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। চলচ্চিত্রকার যশরাজ চোপড়ার একটি চলচ্চিত্রের ‘চাঁদনি’ তার পছন্দের গান। তাকে নিয়ে একটি জীবনীমূলক গ্রন্থ রচনার জন্য মনস্থির করেন ডয়ের, যেটি প্রকাশিত হয় ২০০২ সালে।
সিনেমায় সামাজিক বৈষম্য প্রসঙ্গে এই বইয়ে তিনি বলেন, ‘মিডল ক্লাস পিপলস আর নিউ ডেসি’। নিজের এই অভিমতের ব্যাখ্যায় বললেন, মধ্যবিত্ত শ্রেণির জানাশোনা অনেক ক্ষেত্রেই বেশি দেখা যায় এবং এরাই সিনেমার প্রধান দর্শক।
অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কমবেশি ভিন্ন হলেও ভারতের শিক্ষিত নাগরিকরা হিন্দি সিনেমাকেই বেশি গুরুত্ব দেন বলে মনে করেন ডয়ের। তিনি বলেন, দেশটির সবার শুরুটা হয় হিন্দি সিনেমা দিয়ে এবং পরবর্তী জীবনেও দেখার জন্য তাদের পছন্দসই সিনেমা হিন্দিতেই পেয়ে যান। তাই অন্যান্য সিনেমা দেখলেও বলিউড তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণই থাকে।
সিনেমাতে ধর্মকে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে দেখানো হয় কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধর্ম যদি সিনেমার গল্পের হাত ধরেও আসে, সেটা সুনির্দিষ্ট সংস্কৃতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রেই আসে এবং বলিউডকে তিনি সেক্যুলারই মনে করেন।
বই থেকে সিনেমার গল্প চয়ন প্রসঙ্গে বলেন, এতে তিনি খারাপ কিছু দেখেন না। একটা গল্প বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হতে পারে। যেহেতু গল্প প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে বই, এর বিস্তৃতিও অনেক বেশি। তাই এটি হওয়া খুব স্বাভাবিক।
সিনেমা দেখার মাধ্যম এবং বলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে ডয়ের বলেন, এটা সবসময় পরিবর্তনশীল। আজ যেমন সিনেমা হলের স্থান নিয়ে নিচ্ছে নেটফ্লিক্সের মতো মাধ্যম, আবার এ-ও দেখছি, সিনেমার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিভিন্ন সিরিজ।