মাহবুব আজিজ গল্পের নশ্বরতা প্রসঙ্গে বলেন, একজন লেখক একটি চরিত্রের মনোজাগতিক বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করেন। যে লেখক চরিত্রের ভেতরে ঢুকে গল্প লেখেন, কেবল তার গল্পই সার্থকতা লাভ করে। মাহবুব আরও বলেন, চরিত্রের সামাজিক পরিচিতি, মনস্তাত্ত্বিক গঠন এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির ওপর নির্ভর করে সেই চরিত্র সৃষ্টির সার্থকতা।
নশ্বরতা প্রসঙ্গে আরেক আলোচক মাসুদ হাসান বলেন, একজন লেখককে নিজের অনুভূতির জায়গা শক্তভাবে তৈরি করতে হবে। সময়কে ধারণ করতে হবে। কালের অক্ষ স্থাপনে আরও মনযোগী হতে হবে।
বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথা গণযোগাযোগ গল্পে কেমন প্রভাব ফেলছে বা গল্প লেখার চিরায়ত ধরন পাল্টাচ্ছে কিনা, সঞ্চালক ফিরোজ আহমেদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব আজিজ বলেন, সময়ই নিশ্চিত করে দেবে আপনি কতটুকু চাইছেন একজন গল্পকারের কাছ থেকে। যেমন রবীন্দ্রনাথের গল্পে ফোন/ফোনালাপ-সংক্রান্ত ঘটনা খুঁজতে যাওয়া হবে অনর্থক। নিজের লেখা অপ্রকাশিত একটি গল্পের রেফারেন্স ধরে তিনি আরও বলেন, গণযোগাযোগ প্রভাব ফেলছে ঠিকই, কিন্তু চরিত্রের মনন ও নাটকীয়তা সৃষ্টির মাধ্যমে একটি গল্পে সবসময় প্রাণ সঞ্চার করা সম্ভব।
শিল্পের বেদনা বা লেখকের সার্থকতা প্রসঙ্গে সঞ্চালক ফিরোজ আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব আজিজ বলেন, একজন লেখকের যে সব লেখাই সার্থক হবে, এমনটি নয়। ১০০টি লিখলে ৫টি টিকবে। কিন্তু যেগুলো টিকবে, অমর হয়ে থাকবে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনও বিষয়ে লেখাই একমাত্র উত্তর।
লেখকদের মানসম্মত লেখার পাশাপাশি পাঠাগার স্থাপন এবং বিভিন্ন লেখকদের বই সহজলভ্য করার মাধ্যমে নিয়মিত পাঠকসমাজ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন মাসুদ হাসান।