বিভিন্ন কারণে যৌন পেশায় সম্পৃক্ত হতে বাধ্য কিশোরীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় এবং মর্যাদাপূর্ণ কাজে যুক্ত হতে চায়। তাদের পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগ প্রয়োজন। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও উন্নয়ন সহযোগিদের সমন্বয়ে এসব কিশোরীদের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা ও গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, এই পেশা থেকে কিশোরী যৌন কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার, বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী ও কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তাদের বিকল্প পেশার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং আগ্রহীদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের ২০১৬ সালে প্রকাশিত এক গবেষণার বরাতে আরও জানানো হয়, যৌন পেশায় যুক্ত আছে প্রায় ১৮ হাজার কিশোরী, যাদের বয়স ১০ থেকে ১৯ এর মধ্যে। এদের বেশিরভাগই দারিদ্র্য, শিক্ষার সুযোগের অভাব, ভঙ্গুর পরিবার, কম বয়সে বিয়ে হওয়া এসব পরিস্থিততে বাধ্য হয়ে এই পেশায় এলেও এখন মর্যাদাপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর অর্থায়নে সেভ দ্য চিলড্রেন এমন যৌনপেশায় যুক্ত এক হাজার কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য গত বছরের জুন থেকে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্প কিশোরীদের জীবন ও মনস্তত্ত্ব, পেশার ঝুঁকি, ভবিষ্যত ভাবনা বিষয়ে তাদের অবস্থান ও অনুভূতি অনুধাবনের চেষ্টা করেছে।
এই কিশোরীরা, যারা ঘটনাচক্রে বা দুর্ভাগ্যক্রমে যৌন পেশায় যুক্ত হয়ে পড়েছে, তারা নানা পরিস্থিতির কারণে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়, ফলে এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রমে তাদের উপস্থিতি বেশ কম পাওয়া যায়। তাই এসব কিশোরীদের জন্য এই বিশেষায়িত প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রিনা পারভিন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের টিবি, লেপ্রসি ও এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম (এএসপি) প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ এর ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ ভিরা মেনদোকা, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের পরিচালক ফখরুল কবির, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার মামুনুর রহমান মামুনসহ অন্যরা।