সরকারের সব প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়নের তুলনায় শিশুকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি কম বলে মনে করছে বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকালে সংস্থাটির কার্যালয়ে ‘শিশু বাজেট: গতিপ্রকৃতি ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শিশু বাজেটে অন্তর্ভুক্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ক ৩০টি প্রকল্পের বাস্তবায়নের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেভ দ্য চিলড্রেন দেখেছে- সরকারের সব প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়নের তুলনায় শিশুকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি কম। বাজেট পরিমার্জনের বেলাতেও দেখা গেছে, সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রতিবছরই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কমানো হয়, যা শিশুদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিতে বাধা তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হয়। শিশুস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে শিশুকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, শিশুর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে চললেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালী করার উদ্যোগ প্রতিফলিত হয়নি। আগামী অর্থবছরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে সেভ দ্য চিলড্রেনের চাইল্ড রাইটস গভর্নেন্স অ্যান্ড চাইল্ড প্রোটেকশন বিভাগের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শিশুদের আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়তে হলে শিশুদের জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন। শিশুদের জন্য বিনিয়োগ ও বাজেটের ক্ষেত্রে সেভ দ্য চিলড্রেন পাঁচটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়। যথাযথ খাতে বরাদ্দ; ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা; বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় শিশুসহ নাগরিক অংশগ্রহণ; সামাজিক খাতে বিনিয়োগ এবং রাজস্ব থেকে বাজেটে বরাদ্দ।’
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের চাইল্ড রাইটস গভর্নেন্স অ্যান্ড চাইল্ড প্রোটেকশন সেক্টরের ডেপুটি ডিরেক্টর (গভর্নেন্স অ্যান্ড পাবলিক ফাইন্যান্স) আশিক ইকবাল।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান রিসোর্স পরিচালক (অ্যাডমিন অ্যান্ড আইসিটি) ফাইজা আনসারী, হিউম্যানিটেরিয়ান পরিচালক মোহাম্মদ মোশতাক হোসেন, চাইল্ড প্রভার্টি বিভাগের পরিচালক ফ্রেডরিক ক্রিস্টোফার প্রমুখ।