‘বিদেশ ফেরত কর্মীদের পুনরেকত্রীকরণে দরকার ডাটাবেজ’

বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণে তৃণমূলের বিভিন্ন সংস্থার ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস বলেছেন, বিদেশ ফেরত কর্মীদের পুনরেকত্রীকরণ করতে হলে ডাটাবেজ থাকা জরুরি। আমরা সেটা তৈরি করছি, কিন্তু এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশনের সঙ্গে সেটি যুক্ত না হলে সেই ডাটাবেজ কোনও কাজে আসবে না। আমরা পুলিশের বিশেষ শাখার সঙ্গে অনেকবার এ নিয়ে আলোচনা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণে তৃণমূলের বিভিন্ন সংস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভার আয়োজন করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। তিনি বলেন, ফিরে আসা কর্মীদের পুনরেকত্রীকরণে সবার আগে আমাদের দরকার একটি ডাটাবেজ। কিন্তু আমাদের দেশে সেটা নেই। ফিলিপাইনে আছে, ইউরোপের সব দেশে আছে। তাদের সামাজিক সুরক্ষা এতটাই শক্ত যেখানে প্রত্যেক মানুষ ডাটাবেজের আওতায় আছে। বিশ্বের অনেক দেশেই মানুষ জন্মের পর ডাটাবেজের আওতায় আসে। কিন্তু আমাদের দেশে সেই নেটওয়ার্ক, ডাটাবেজ সিস্টেম চালু করতে পারিনি। আমরা ন্যাশনাল আইডি কার্ডের মাধ্যমে শুধুমাত্র ১৮ বছর যারা তাদের আনতে পেরেছি। দেশে ডাটাবেজ করার জন্য প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি, আমরা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে টাকা বিনিয়োগ করেছি। বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দল এ নিয়ে কাজ করছেন, খুব শিগগরই হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমি জানি এই ডাটাবেজ করলেও কিছু হবে না। কারণ লোকজন ফেরত আসে বিমানবন্দর দিয়ে। সেই ইমিগ্রেশনের সঙ্গে ডাটাবেজের যদি সংযোগ না দেওয়া হয়, পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ করতে হলে এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশনের সঙ্গে ডাটাবেজের লিংক থাকতে হবে। সেটা নিয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার মিটিং করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা সফল হতে পারিনি। এক সময় আমরা শুরু করেছিলাম কিন্তু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের চেষ্টা আছে, আমরা একটি ডাটাবেজ করছি। এটা হয়ে গেলে আমরা ইমিগ্রেশনের সঙ্গে লিংক করবো। এটা যদি করতে পারি, সেটা হবে পুনরেকত্রীকরণে ভিত্তি। সেখান থেকে আমরা পুনরেকত্রীকরণের দিকে যাবো।’
পুনরেকত্রীকরণ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অনেক কঠিন বিষয় উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, আমরা কর্মসংস্থান নিয়েই ব্যস্ত। সেটা অভ্যন্তরীণ হোক আর বৈদেশিক হোক। আমাদের মন্ত্রণালয়ে আমরা বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করি, কারণ প্রতিবছর আমাদের ২৫ লাখ লোক শ্রমবাজারে যুক্ত হওয়ার উপযোগী হয়। প্রায় ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান আমরা করতে পারি। প্রায় ১৫ লাখ লোক থেকে যাচ্ছে বেকারত্বে। গড়ে বেকারত্ব আমাদের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, শিক্ষিত বেকার ১২ শতাংশ। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছি, এর সঙ্গে আমাদের একটি স্ট্যাটাস জড়িত আছে। মধ্যম আয়ের দেশের সঙ্গে অদক্ষ গৃহকর্মী পাঠানো মিলে না। তাহলে আমাদের গৃহকর্মীদের অদক্ষ থেকে দক্ষ করতে হবে। দক্ষ না করলে আমাদের এই সমস্যাগুলো থেকেই যাবে। সেই দক্ষতার জন্য সরকার চেষ্টা করছে, নতুন নতুন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান। এ সময় অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।