কোটি টাকার নিচে গল্প ছিল না বদরুলের!

প্রতারণার দায়ে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার বদরুল এখন কারাগারেকখনও সেনা কর্মকর্তা, আবার কখনও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিতে চলাফেরায় ছিল আলিশান ভাব। কথায় কথায় কোটি কোটি টাকা আর ঢাকায় একাধিক বাড়ি-গাড়ি এবং বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গল্প শোনাতেন। মূলত এস এম বদরুল আলম (৪৫) নামের এ ব্যক্তি অষ্টম শ্রেণি পাস। তার অর্থবিত্তের গল্পও সব ভুয়া। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের হাতে ধরা পড়ে বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, বদরুল একজন পেশাদার প্রতারক। সে অনেককেই বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে অধিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করেছে। আত্মসাৎ করেছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, বদরুল আসলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পুরানো ঢাকার বাবুবাজারে সেবা মেডিক্যাল হল নামে তার একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। এছাড়া কথিত একটি পত্রিকার সাংবাদিক কার্ড তৈরি করেছিলেন তিনি। তার এক মামী রয়েছেন, যিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। আরেক মামা ধানমন্ডির র‌্যাংগস আনাম প্লাজায় একাধিক দোকানের মালিক। নিজের সম্পর্কে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে আর আত্মীয়-স্বজনের গল্প বলে প্রতারণা করতেন তিনি।

সম্প্রতি সাইফ আলী নামে এক সাংবাদিক ও তার তিন বন্ধুর কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বদরুল। এ ঘটনায় সাইফ আলী বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

রমনা থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক এসএম বদরুল আলমের বাবার নাম মৃত দিদারুল হক। গ্রামের বাড়ি যশোরের নওয়াপাড়ায়। ঢাকায় থেকে তিনি সুকৌশলে প্রতারণার কাজটি চালিয়ে আসছিলেন।

মামলার বাদী সাইফ আলী বলেন, প্রায় এক বছর আগে নামস্বর্বস্ব একটি পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে বদরুলের সঙ্গে পরিচয় হয়। বদরুল সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিজেকে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। বিভিন্ন সময়ে সে নিজেকে একজন এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসায়ী, ধানমন্ডিতে নিজস্ব ফ্ল্যাট, কাফরুলে নিজের বাড়ি, নিজের ও স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি টাকার এফডিআর জমা আছে বলে জানিয়েছে। মিটফোর্ডে তার ওষুধের ব্যবসাও রয়েছে বলেও দাবি করে। এক সময় বদরুল উচ্চহারে লভ্যাংশ দেওয়ার বিনিময়ে ব্যবসায় বিনিয়োগের আহ্বান জানায়। পরে বদরুলের কথা মতো ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। প্রথম দিকে লভ্যাংশের টাকা ফেরত দিয়ে আরও বিনিয়োগের কথা বলে বদরুল। পরে বন্ধু ও সাংবাদিক সাখাওয়াত, রিয়াজ ও আবুল কালাম মিলে ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। কিন্তু বিনিয়োগের দুই মাস পরেই প্রতারক বদরুলের আসল চেহারা ধরা পড়ে। টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায় সে।

ডিবির সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের কর্মকর্তারা বলেণ, বদরুল খুব চতুর প্রকৃতির। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে সে নিজের ব্যবহৃত একটি মোবাইল নোয়াখালীতে রেখে এসেছিল। যাতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান করতে গিয়ে পুলিশ বিভ্রান্তিতে পড়ে। তবে ফাঁদ পেতে তাকে বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবির ওই কর্মকর্তা জানান, বদরুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। একাধিক মামলায় ওয়ারেন্টও বের হয়েছে। কিন্তু সে ঘনঘন মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে আত্মগোপন করে থাকতো। তাকে এক দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রতারণার টাকা দিয়ে সে স্ত্রীর নামে ব্যাংকে এফডিআর করে রেখেছে। তাকে আবারও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি।