রাজস্ব কর্মকর্তার সহায়তায় অবৈধ সিগারেট উৎপাদন

ভারগন টোবাকোর অবৈধভাবে উৎপাদন করা সিগারেটকুষ্টিয়ায় ভারগন টোবাকো দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করেছে। তাদের এ কাজে সহায়তা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দুই জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা। সোমবার ও মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটিতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে কয়েকটি সংস্থা। অভিযানে ভারগন টোবাকোর তিনটি গোডাউন থেকে দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা মূল্যের জাল ব্যান্ডরোল, অবৈধভাবে উৎপাদন করা সিগারেট, সিগারেট তৈরির কাঁচামাল এবং অবৈধভাবে আমদানি করা সিগারেট উৎপাদনে সহায়ক যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র‌্যাব-১২ (ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-১) কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. রুহুল আমিন বলেন, অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন করায় গোয়েন্দা সংস্থা অভিযান পরিচালনা করেছে। র‌্যাব এ অভিযানে সহায়তা করেছে।
সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান ও প্রানেশ কুমার সরকারের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও সহযোগিতায় ভারগন টোবাকোর অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছিলো। তারা ভারগন টোবাকোর আতিথেয়তায় সেখানে নিয়মিতি যাওয়া-আসা করেন এবং বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা নেন। এমনকি তাদের জন্য বিলাসবহুল আবাসনও বরাদ্দ ছিল।
সূত্র জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার সদস্যরা গোপন সূত্রে জানতে পারেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া পালপাড়া এলাকায় ভারগন টোবাকো দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করছিল। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও র‌্যাব-১২ এর সহযোগিতায় গোয়েন্দা সংস্থাটি সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) রাত ১০টা থেকে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুর তিনটা পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ভারগন টোবাকোর তিনটি গোডাউন থেকে প্রায় ৩৫ হাজার জাল ব্যান্ডরোল, ৪০ কার্টুন অবৈধভাবে উৎপাদন করা সিগারেট, সিগারেট তৈরির কাঁচামাল এবং অবৈধভাবে আমদানি করা সিগারেট উৎপাদনে সহায়ক যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ভারগন টোবাকোর ম্যানেজার কাজী রাসেল আজাদকে আসামি করে মোবাইল কোর্টের আওতায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে কুষ্টিয়া পুলিশ হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।