‘জিপিএ-৫ পেলেই হবে না, ভালো মানুষও হতে হবে’

উত্তরা মডেল কলেজের রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন মেয়র আতিকুল ইসলামজিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে বলে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিক্ষার আলোয় দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেই সঙ্গে দেশের অসহায় ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, মানুষ কিন্তু মানুষের জন্য।’

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘রজতজয়ন্তী-২০১৯’ শীর্ষক এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু জিপিএ-৫ পেলেন, কিন্তু মানুষ হলেন না। তাহলে কোনও লাভ নেই। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের মানুষের মতো মানুষ হতে গেলে যেরকম পড়ালেখা করতে হবে, ঠিক তেমনি অন্যান্য কারিকুলামও করতে হবে। সবাইকে মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে হবে।’

অবশ্যই বড় বড় স্বপ্ন দেখতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন ঘুমিয়ে দেখলে চলবে না। স্বপ্ন বাস্তব করতে হলে আমাদের জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতে হবে। এই স্বপ্নগুলো পূরণ করবে রাজউক মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।’

পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ডিএনসিসি বলেন, ‘একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ঢাকাকে একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করতে হবে। বিদেশে গেলে আমরা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলি না। একটি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলি‌। বিদেশে আমরা ঠিকই নিয়ম মেনে চলি। এই রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি সবাইকে অনুরোধ করবো—আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি, দেশের কোথাও যত্রতত্র ময়লা না ফেলি। আসুন, সবাই মিলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ে তুলি।’

দেশের নাগরিকদের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমার প্রশ্ন, দেশের সুনাগরিক ক'জন? আমরা যদি সুনাগরিক হতে পারি, দেশের আইন মেনে চলবো। ট্রাফিক সিস্টেম মেনে চলবো। ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করে রাস্তা পার হবো। সুনাগরিক হলে আমরা দেশকে জীবন দিয়ে হলেও ভালোবাসবো।’

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলমের সভাপতিত্বে রজতজয়ন্তী ২০১৯ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসেন, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কর্নেল মো. নুর নবী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে কলেজের ছয় হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।