অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, ‘একচল্লিশ সালের বাংলাদেশ গড়তে শিশুদের যেখানে নিয়ে যেতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেখানে নিয়ে যেতে হলে শিশুদের অন্তরে বাংলাদেশকে গেঁথে দিতে হবে। এটার জন্য কোনও প্রকল্প দরকার হবে না, প্রকল্প ছাড়াই সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘আজকে শিক্ষার্থীরা যে বই পায়, মিড-ডে মিল পায়, তাদের মায়েদের অ্যকাউন্টে টাকা যায়— এগুলো ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলে চিন্তারও ব্যাপার ছিল না। এখন মসজিদে পড়ুক, মন্দিরে পড়ুক আর যেখানেই পড়ুক বছরের প্রথম দিন বই পায়। এমনটি কখনও ছিল না। এই বাংলাদেশ আমাদের সম্মানীত করেছে। প্রত্যেকের জীবনের আমূল পরিবর্তন হয়েছে এই দেশের কারণে।’
ফিজার বলেন, ‘এই দিনের অনুষ্ঠান সার্থক হোক। বই দেওয়ার উদ্দেশ্য যেন সফল হয়। সব শিশুর অন্তরে যেন দেশকে ঢুকিয়ে দিতে পারি। তাহলে আর কোনও কিছুরই অভাব হবে না।’ এই জাতির কোনও অভাব নেই, শুধু মানুষের অন্তর বিকশিত হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মতো শিক্ষক এই জাতি আর পাবে না। সদিচ্ছা নিয়ে কোনও স্কুল ছাড়াই তিনি ৬ দফা, ১১ দফা মুখস্থ করিয়েছিলেন পুরো জাতিকে। স্কুল হলে কখনও পারতেন না। মানুষের অন্তরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে হবে দেশটাকে।’
শিশুদের দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে মানবিক গুণসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বই উৎসব উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির, দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব সোহেল আহমেদ, সংসদ সদস্য শিরিন আক্তার ও নজরুল ইসলাম বাবু।