যে কারণে বেশি পদক পেলেন ডিএমপি-সিটিটিসি’র পুলিশ সদস্যরা

সেবা, সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য প্রতিবছর মতো এবারও পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে চারটি ক্যাটাগরিতে ১১৮ জনকে সর্বোচ্চ পদক বিপিএম-পিপিএম দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম সাহসিকতা) এবং বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম সেবা) দেওয়া হয়েছে ২৮ জনকে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম সাহসিকতা) পেয়েছেন ২০ জন ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম সেবা) পেয়েছেন ৫৬ জন।

অন্যান্যবারের মতো এই বছরও সবচেয়ে বেশি পদক পেয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদস্যরা। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকার জন্য ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ট ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট (সিটিটিসি) সদস্যরা পেয়েছেন ১৫টি পদক। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও বিভিন্ন ক্রাইম জোনের সদস্যরা মিলে আরও ১৫টি পদক পেয়েছেন।

পদকপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, স্বীকৃতি সবসময় ভালো কাজের জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। পুলিশের সর্বোচ্চ এই পদক ভালো কাজককে আরও গতিশীল করবে বলেও মন্তব্য করেন তারা। আরও জানা যায়, পুলিশের সবচেয়ে বড় ইউনিট ডিএমপি। একারণে এই ইউনিটের সদস্যরা পদকও প্রাপ্তিতেও রয়েছে শীর্ষে।

ডিসি (সাইবার ক্রাইম) মিশুক চাকমা

রবিবার (৫ জানুয়ারি) রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পদকপ্রাপ্তদের নিজ হাতে পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুলিশ সপ্তাহ- ২০২০ এর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।

এডিসি (সিটিসিটি) নাজমুল হক

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অসীম বীরত্ব ও সাহসিতকার জন্য বিপিএম সাহসিকতা পুরষ্কারকে সর্বোচ্চ পুরষ্কার হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বছর বিপিএম সাহসিকতা পুরষ্কার দেওয়া হয় ১৪ জনকে। এর মধ্যে ৭ জনই হলেন ডিএমপির সদস্য। একজন বাদে সবাই কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্য। তারা হলেন: ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম; অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) এস এম নাজমুল হক, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমত উল্লাহ চৌধুরী, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আহসান হাবীব, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম ও পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ।

এডিসি (সিটিটিসি) মাহফুজা লিজা

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমানকে সশস্ত্র ডাকাত গ্রেফতার, হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার, আলোচিত সড়ক দুর্ঘটনায় গাড়িচালক গ্রেফতার, স্বর্ণের দোকান ও মানি এক্সচেঞ্জের দোকানে চুরির রহস্য উদ্ঘাটন, জাল টাকা ও জাল রুপির কারখানা আবিষ্কার, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গাড়ির কাগজপত্র, এনআইডি জালিয়াতি চক্র, অজ্ঞান ও মলম পার্টিসহ পাকস্থলীতে ইয়াবা পাচারকারীদের গ্রেফতারের জন্য বিপিএম সাহসিকতা পুরষ্কার দেওয়া হয়।

পুলিশের ওপর পাঁচটি বোমা হামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও হামলাকারীদের গ্রেফতার, নব্য জেএমবির ‘উলফ প্যাক’ সদস্যসহ জঙ্গিদের দ্বারা পুলিশের ছিনতাই হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ড, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড এবং ওলিও ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে হামলা মামলাসহ মোট ১৮টি জঙ্গি হামলা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের কারণে সিটিটিসির ডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, এডিসি এস এম নাজমুল হক, এডিসি আহসান হাবীব ও এডিসি তৌহিদুল ইসলাম সদস্যদের বিপিএম সাহসিকতা পুরষ্কার দেওয়া হয়।

এডিসি (বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট) রহমত উল্লাহ চৌধুরী

এছাড়া সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের এডিসি রহমত উল্লাহ চৌধুরীকে একাধিক জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার, বিপুল পরিমাণ ডেটোনেটরসহ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে উদ্ধার হওয়া বোমা নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিপিএম সাহসিকতা পুরষ্কার দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, এবার ২৮টি বিপিএম সেবা পদকের মধ্যে ডিএমপির ৯ সদস্য এই পদক পেয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্য। তারা হলেন- ডিবি দক্ষিণের সাবেক ডিসি (বর্তমানে ডিসি মতিঝিল) জামিল হাসান, ডিবি দক্ষিণের ডিসি রাজীব আল মাসুদ, সিটিটিসির ডিসি মিশুক চাকমা, এডিসি মাহফুজা লিজা, এসি অহিদুজ্জামান নূর, এসি ধ্রুব জোতির্ময় গোপ, পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, এসআই আশুতোষ শীল ও কনস্টেবল সালমান হাজারী।

এডিসি (সিটিটিসি) তৌহিদুল ইসলাম

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও ২১ আসামিকে গ্রেফতার এবং চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন ঘটনায় দ্রুততার সঙ্গে আসামি গ্রেফতারের কারণে ডিবি দক্ষিণের সাবেক ডিসি জামিল হাসান ও বর্তমান ডিসি (সাবেক এডিসি) রাজীব আল মাসুদকে বিপিএম সেবা পদক দেওয়া হয়।

অনলাইনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যার হুমকির রহস্য উদ্ঘাটন ও জঙ্গি সদস্যদের গ্রেফতারের কারণে বিপিএম সেবা পদক দেওয়া হয়েছে সিটিটিসির ডিসি (সাইবার ক্রাইম) মিশুক চাকমাকে। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গ্রেফতার জঙ্গি সদস্যদের প্রোফাইল তৈরি ও গবেষণা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী কার্যক্রমে জোরালো ভূমিকার জন্য বিপিএম সেবা পদক দেওয়া হয় এডিসি মাহফুজা লিজাকে।

 এডিসি (ডিবি) আতিকুল ইসলাম

সিটিটিসির এসি অহিদুজ্জামান নূর বিপিএম সেবা পদক পান পুলিশের ওপর সিরিজ বোমা হামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান লাভসহ সিরিয়া ফেরত জঙ্গি গ্রেফতার, এয়ারপোর্ট পুলিশ বক্সের সামনে আত্মঘাতি বোমা হামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং তদন্ত তদারকির জন্য।

এছাড়া ফেসবুকের আইডি হ্যাকার, অশ্লীল ফেসবুক পেজের এডমিনসহ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তিকারীকে গ্রেফতারের জন্য এসি ধ্রুব জ্যেতির্ময় গোপকে বিপিএম সেবা পদক দেওয়া হয়েছে।

 এসি (সিটিটিসি) অহিদুজ্জামান নূর

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক বা পিপিএম সাহসকিতা পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে ২০ জনকে। এর মধ্যে পাঁচ জন ডিএমপির সদস্য। তারা হলেন- সিটিটিসির এসি আতিকুর রহমান চৌধুরী, শ্যামপুর থানার এসআই সোহাগ চৌধুরী, সিটিটিসির এএসআই সোলাইমান হোসেন, শ্যামপুর থানার এএসআই মাসুম বিল্লাহ ও সিটিটিসির নায়েক মোহাম্মদ রাসেল মিয়া।

এছাড়া চলতি বছর পিপিএম সেবা পদক দেওয়া হয় ৫৬ জনকে। এর মধ্যে ৯ জন ডিএমপির সদস্য। তারা হলেন- ডিএমপির ডিসি শ্যামল কুমার মুখার্জী, ওয়ারী বিভাগের এডিসি শাহ ইফতেখার আহমেদ, সদর দফতরের এডিসি এম ফয়জুর রহমান,  এডিসি আরিফুল ইসলাম, ডিবি পূর্ব বিভাগের এডিসি আতিকুল ইসলাম, ডিএমপির মতিঝিল জোনের এসি জাহিদুল ইসলাম সোহাগ, শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান, ডিএমপির আরওআই কাইয়ুম শেখ ও গেণ্ডারিয়া থানার ওসি সাজু মিয়া।

 

এডিসি (সিটিটিসি) আহসান হাবীব

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিটিটিসির এসি আতিকুর রহমান চৌধুরীকে আনসার আল-ইসলামের ১৪ সদস্য গ্রেফতার, পুলিশের ওপর হামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং নব্য জেএমবির ৪ সদস্যকে গ্রেফতারের কারণে পিপিএম সাহসিকতা পুরষ্কার দেওয়া হয়। ডিএমিপর ডিসি (অর্থ) শ্যামল কুমার মুখার্জীকে অর্থ বিভাগকে পুর্ণাঙ্গ অটোমেশনকরণ, স্বয়ংক্রিয় বেতন পদ্ধতি চালু, পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংকে সদস্যদের অ্যাকাউন্ট খোলা ও তদারকিসহ বিভিন্ন কাজের জন্য পিপিএম সেবা পদক দেওয়া  হয়।

 

এসি (সিটিটিসি) আতিকুর রহমান চৌধুরী

ডিবির এডিসি আতিকুল ইসলামকে বহুল আলোচিত পাঠাও চালক হত্যাকারীকে গ্রেফতার, আলোচিত লুচি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, লুণ্ঠিত প্রায় ২৯ লাখ টাকা উদ্ধারসহ ডাকাত দলের সদস্য গ্রেফতারের কারণে বিপিএম সেবা পদক দেওয়া হয়।

ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘স্বপ্ন’ থেকে এক অসহায় বাবার দুধচুরির ঘটনায় মানবিক পুলিশিং করার কারণে এসি জাহিদুল ইসলামকে বিপিএস সেবা পদক দেওয়া হয়েছে।