২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়। কাজ শেষ না হওয়ায় ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, কাজ ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে। আগামী ৬ মাসে বাকি ৪০ ভাগ শেষ করতে হবে। তবে প্রকল্পের কাজে ধীরগতি থাকায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ইঞ্জিনিয়ারি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ৮টি উনিয়নের মধ্যে শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া ইউনিয়নের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নে ৭৭৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৬৭ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার রাস্তা, ৮ দশমিক ৮১ কিলোমিটার ফুটপাথ, ১৭১ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার নর্দমা, ১৪৩ দশমিক ৪৭কিলোমিটার রাস্তায় এলইডি লাইট, ৭ হাজার ৬৩টি বৃক্ষ রোপণসহ নানা অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দক্ষিণগাঁও ইউনিয়নের নন্দীপাড়া এলাকায় দেখা গেছে, এলাকার বিভিন্ন সড়কে নির্মাণ কাজ চলছে। এলাকার প্রধান ও সংযোগ সড়কগুলোতে এলোমেলোভাবে নির্মাণ সামগ্রী ও পাইপ ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সড়কটির কাজ শুরু করা হলেও এখনও শেষ হয়নি। কাজের ধীরগতি ও গুণগত মান নিয়ে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তারা বলছেন, কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দিনের পর দিন ফেলে রাখে। এ কারণে নাগরিকদের চলাচলে ভোগান্তির হয়।
স্থানীয় দোকানদার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘৬ মাস আগে রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকদিন কাজের গতি ছিল। কিন্তু এখন নেই। অনেক দিন ধরে কাজ পড়ে আছে। ঠিকাদার ইচ্ছে করলে একটু গতি দিয়ে কাজ করতে পারেন।’ তবে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা শেষে সিটি করপোরেশন কাজ শুরু করেছে তাতেই সন্তুষ্ট তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, ‘সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। কাজের মান অনেক খারাপ। সিটি করপোরেশনে অভিযোগ করলেও কোনও প্রতিকার পাওয়া যায় না।’
এ বিষয়ে কথা বলতে বারবার চেষ্টা করেও প্রকল্প পরিচালক ও ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, ‘ইউনিয়নগুলো ওয়ার্ড হিসেবে ডিএসসিসিতে যুক্ত হওয়ার পরপরই সেগুলোতে আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। এরই মধ্যে চারটি ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। যেখানে গ্রাম ছিল সেখানে আমরা শহর করে দিয়েছি।’
প্রকল্পগুলোর কাজের মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ডগুলো নিয়ে অনেক কাজ করেছি। কাজের মান নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যেখানে অভিযোগ এসেছে সেখানে এলজিইডি ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। বাকি যে চারটি ইউনিয়নের কাজ চলমান রয়েছে সেখানে অনেক সরু রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে। সড়ক, ফুটপাত, ড্রেন, নর্দমা ও ব্রিজসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলো নিয়ে ভিন্ন প্রতিষ্ঠান দ্বারা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে।’
তবে নাম প্রকাশে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের একজন প্রকৌশলী বলেন, ‘কয়েকটি স্থানে সরকার দল সমর্থিত কয়েকজন ঠিকাদারের কাজের বিষয়ে অভিযোগ উঠে। পরে কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ তদন্তে একাধিক কমিটি গঠন করে। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী তাদের কাজ কার্যাদেশ অনুযায়ী আদায় করে নেওয়া হয়েছে।’